বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শেহবাজ শরীফ। এ সময় তারা পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে একে অপরকে শুভেচ্ছা জানান এবং পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদারের বিষয়ে মতবিনিময় করেন।
শুক্রবার (২০ মার্চ) অনুষ্ঠিত এই ফোনালাপের বিষয়টি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানানো হয়। এতে বলা হয়, দুই দেশের ঐতিহাসিক, ভ্রাতৃত্বপূর্ণ ও পারিবারিক সম্পর্কের বিষয়টি স্মরণ করে উভয় নেতা ভবিষ্যতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ফোনালাপে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শেহবাজ শরীফ বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর ব্যাপারে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও সুসংহত করতে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ প্রয়োজন। একই সঙ্গে বাণিজ্য, অর্থনীতি এবং উন্নয়ন সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার জন্য আঞ্চলিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে পারস্পরিক আস্থা ও সমঝোতার ভিত্তিতে কাজ করার ওপর জোর দেন তিনি।
ফোনালাপে দক্ষিণ এশিয়ার সামগ্রিক পরিস্থিতি ছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। উভয় নেতা মতপার্থক্য ও বিরোধ নিরসনে সংলাপ ও কূটনৈতিক পথ অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা মনে করেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে শান্তিপূর্ণ সমাধানই দীর্ঘমেয়াদে টেকসই স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারে।
দুই নেতা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় একযোগে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, বিশ্বব্যাপী নানা সংকট ও উত্তেজনার মধ্যে সহযোগিতা ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার বিকল্প নেই। এ জন্য ভবিষ্যতেও দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রাখার প্রয়োজন রয়েছে।
ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে এই ফোনালাপ আরও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের যোগাযোগ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা জোরদারে সহায়ক হতে পারে।
ফোনালাপ শেষে উভয় নেতা একে অপরের সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ কামনা করেন এবং দুই দেশের জনগণের শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।
আাকশজমিন / আরআর