ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মমেকের ৩য় তলায় শিশু ওয়ার্ডে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস শিল্পে গ্যাস সরবরাহ মঙ্গলবার থেকেই স্বাভাবিক হওয়ার আশা প্রধানমন্ত্রীর ব্যাংকে কোটি টাকার হিসাব ছাড়াল ১ লাখ ৪১ হাজার কাশফুল শুধু সৌন্দর্য নয়, অনেকের জীবিকাও বটে তাড়াশে গোয়ালঘরের তালা ভেঙে ৮টি গরু চুরি, নিঃস্ব কৃষক পরিবার ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ১৭৩৩ জন ঢাকার দুই সিটিতে জামায়াতের অনানুষ্ঠানিক মেয়র প্রার্থী ঘোষণা চারবার গুলিবিদ্ধ ও তিনবার কারাবরণ: ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আলোচনায় ইশরাক অঙ্গ পাচার চক্রের হাত থেকে ফিরল লোহাগাড়ার রায়হান ডিএমপির ৩ সহকারী পুলিশ কমিশনারকে নতুন পদে বদলি

পরাজয়কে চুক্তি বলবেন না— ট্রাম্পকে কড়া জবাব ইরানের


  • আপলোড সময় : বুধবার ২৫ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৩:৪৬ পিএম

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনার কঠোর জবাব দিয়েছে ইরান। দেশটির প্রধান সামরিক কমান্ড খাতাম আল-আম্বিয়া সদরদপ্তরের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাগারি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ‘আপনাদের পরাজয়কে চুক্তি বলে অভিহিত করবেন না।’ বুধবার ইরানি গণমাধ্যমে প্রচারিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি এই মন্তব্য করেন।

ভিডিও বার্তায় যুক্তরাষ্ট্র বা ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম সরাসরি উল্লেখ না করলেও ‘স্বঘোষিত বিশ্ব পরাশক্তি’ শব্দটি ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রকেই ইঙ্গিত করেন ইব্রাহিম জোলফাগারি। তিনি বলেন, ‘আপনাদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের মাত্রা কি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, এখন নিজেরাই নিজেদের সঙ্গে আলোচনা করছেন?’ তার এই মন্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিকেও কটাক্ষ করা হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ইব্রাহিম জোলফাগারি আরও বলেন, ‘এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর মাধ্যমে নিশ্চিত হয়। এটি আগে আপনাদের বুঝতে হবে। যতক্ষণ না আপনারা এই বাস্তবতা উপলব্ধি করছেন, ততক্ষণ পর্যন্ত বিনিয়োগ, জ্বালানি ও তেলের আগের দাম—কোনোটিই ফিরে পাবেন না।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, শক্তিই স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে এবং এই নীতি থেকে ইরান সরে আসবে না।

একই ভিডিও বার্তায় তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, ‘আমাদের মতো আর কেউই আপনাদের সঙ্গে সমঝোতায় যাবে না। এটি আর কখনোই ঘটবে না।’ তার এই বক্তব্য ইরানের বর্তমান কূটনৈতিক অবস্থানকে আরও কঠোরভাবে তুলে ধরেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

এর আগে, মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফিংয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৫ দফা শান্তি পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন এবং জানান, এ নিয়ে আলোচনা চলছে। ইসরায়েলি গণমাধ্যম চ্যানেল-১২ এর এক প্রতিবেদনে এই পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর এবং ভবিষ্যতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা।

এ ছাড়া, ইরানকে নাতানজ, ইসফাহান ও ফোরদো পারমাণবিক স্থাপনা বন্ধ ও ধ্বংস করতে হবে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) এসব কার্যক্রমের ওপর পূর্ণ তদারকি করবে। ইরানকে তার বিদ্যমান পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস এবং ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতিও দিতে হবে। একই সঙ্গে সব সমৃদ্ধ উপাদান আইএইএ’র কাছে হস্তান্তরের শর্তও রাখা হয়েছে।

পরিকল্পনায় আরও বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি একটি মুক্ত সামুদ্রিক অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত হবে এবং সেখানে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে হবে ইরানকে। পাশাপাশি আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর অর্থায়ন ও অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করতে হবে। ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির বিষয়ে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও এর সংখ্যা ও পাল্লা সীমিত রাখার কথা বলা হয়েছে এবং এগুলো শুধুমাত্র আত্মরক্ষার জন্য ব্যবহারের অনুমতি থাকবে।

এই কঠোর শর্তগুলোর বিনিময়ে ইরানের ওপর দীর্ঘদিন ধরে আরোপিত সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বুশেহর কেন্দ্রে বেসামরিক পারমাণবিক শক্তি উন্নয়নে সহায়তার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের প্রস্তাবিত পরিকল্পনা একদিকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা, অন্যদিকে আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে নতুন ভারসাম্য তৈরির কৌশল। তবে ইরানের সাম্প্রতিক প্রতিক্রিয়া থেকে বোঝা যাচ্ছে, এই প্রস্তাব সহজে গ্রহণ করার কোনো সম্ভাবনা আপাতত নেই।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর