অনলাইন রিপোর্টার
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে ১১ জুন বৃহস্পতিবার বেলা ৩টায়। ওই দিন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী তার প্রথম বাজেট উপস্থাপন করবেন।
অর্থমন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সাধারণত প্রতি বছর জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে বাজেট প্রস্তাবনা পেশ করা হয়। তবে এ বছর কোরবানির ঈদের ছুটির কারণে বাজেটের দিন পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে। Consequently, জুন মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের শেষ কর্মদিবস অর্থাৎ ১১ জুন নতুন অর্থবছরের বাজেট সংসদে উপস্থাপনের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই প্রাকবাজেট আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন স্টেকহোল্ডার, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, অর্থনৈতিক বিশ্লেষক ও সংস্থা নতুন বাজেট সংক্রান্ত মতামত জানাতে আমন্ত্রণ পেয়েছেন। এই আলোচনার মাধ্যমে বাজেটের আকার এবং নীতি নির্ধারণে সকলের মতামত গ্রহণ করা হচ্ছে।
বাজেটের আকার এবং প্রাথমিক প্রস্তাবনা সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ করা হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সকল স্টেকহোল্ডারের মতামত বিবেচনায় নিয়ে জুন মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের বৃহষ্পতিবার বাজেট চূড়ান্ত আকারে সংসদে উপস্থাপন করা হবে। এতে দেশের অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো, কৃষি ও শিল্পখাতের জন্য বরাদ্দের তথ্যসহ নীতিমালা প্রকাশিত হবে।
গত বছরের তুলনায় নতুন বাজেট প্রস্তাবনায় বেশ কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। গত অর্থবছরে বাজেট উপস্থাপন করা হয়েছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার, যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য নির্ধারিত ছিল। তবে গতবার সংসদ না থাকায় বাজেট সরাসরি বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রদর্শিত হয়েছিল। এবারে বাজেট সংসদে সরাসরি পেশ হবে এবং বাজেট সংক্রান্ত আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর অধিবেশনে অংশগ্রহণ করবে সংসদ সদস্যরা।
বাজেটের প্রধান লক্ষ্য দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি, সরকারি খাতের কার্যক্রমের কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক নিরাপত্তা বর্ধন করা। পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও অবকাঠামোর উন্নয়নে আরও বরাদ্দ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিভিন্ন খাতের জন্য নতুন প্রণোদনা এবং কর নীতির সংশোধনও বাজেটের অংশ হতে পারে।
অর্থমন্ত্রী বাজেট উপস্থাপনের সময় সরকারের অর্থনৈতিক নীতি, রাজস্ব আহরণ, ব্যয়ের প্রাধান্য, সরকারি বিনিয়োগ এবং দেশের আর্থিক অবস্থার সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরবেন। এছাড়া বাজেটের মাধ্যমে সরকারের সামাজিক কল্যাণমূলক প্রকল্প, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, কৃষক কার্ড, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় বরাদ্দ এবং স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।
বাজেট উপস্থাপনার পর সংসদে আলোচনা এবং সংশোধনী প্রস্তাবনা গ্রহণ করা হবে। এটি দেশের জন্য অর্থনৈতিক নীতি ও পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশ করবে। সরকারের পক্ষ থেকে বাজেটের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল ও সকলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।
আকাশজমিন / আরআর