প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী সোমবার ক্রীড়া কার্ড ও ক্রীড়াভাতা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। প্রাথমিকভাবে দেশের ৫০০ জন ক্রীড়াবিদকে এই কর্মসূচির আওতায় এনে ভাতা প্রদান করা হবে। সরকারের এ উদ্যোগের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে অবদান রাখা ক্রীড়াবিদদের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
শনিবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে (এনএসসি) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, দেশের ক্রীড়াবিদদের সম্মান ও প্রাপ্য মর্যাদা নিশ্চিত করতে সরকার এই বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
আমিনুল হক বলেন, যারা জাতীয় ক্রীড়াবিদ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে দেশের হয়ে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব করছেন, তাদেরকে একটি নির্দিষ্ট বেতন কাঠামোর আওতায় আনা হবে। এর ফলে তারা নিয়মিত ক্রীড়াভাতা পাবেন, যা তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সহায়ক হবে।
তিনি আরও জানান, ক্রীড়াবিদদের সম্মানিত করতে তাদের জন্য বিশেষ ‘ক্রীড়া কার্ড’ প্রদান করা হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে তারা বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন। যারা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন পদক অর্জন করেছেন, তাদের অগ্রাধিকার দিয়ে এই ভাতা প্রদান করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ক্রীড়াবিদদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মও খেলাধুলার প্রতি আরও আগ্রহী হবে। এতে দেশের ক্রীড়া খাত আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি মন্ত্রণালয়ের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও তুলে ধরেন। আমিনুল হক জানান, দেশের ৪৯৫টি উপজেলায় পর্যায়ক্রমে ক্রীড়া অফিসার নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে খেলাধুলার উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।
এছাড়া রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় দখল হয়ে থাকা খেলার মাঠ উদ্ধারে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। মাঠগুলো পুনরুদ্ধার করা হলে নতুন প্রজন্মের জন্য খেলাধুলার সুযোগ বৃদ্ধি পাবে এবং নগরজীবনে ক্রীড়াচর্চা আরও বিস্তৃত হবে।
তিনি বলেন, সরকার ক্রীড়াঙ্গনের সার্বিক উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ক্রীড়াবিদদের কল্যাণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং স্থানীয় পর্যায়ে ক্রীড়া বিস্তারে এসব উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সরকারের এই পদক্ষেপকে দেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য একটি ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা আশা করছেন, এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আরও বেশি ক্রীড়াবিদ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জন করবে এবং দেশের সুনাম বৃদ্ধি পাবে।
আকাশজমিন / আরআর