ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরলো বঙ্গবন্ধুর একক ছবি, যুক্ত হলো জিন্নাহ ও জুলাই অভ্যুত্থান মমেকের ৩য় তলায় শিশু ওয়ার্ডে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস শিল্পে গ্যাস সরবরাহ মঙ্গলবার থেকেই স্বাভাবিক হওয়ার আশা প্রধানমন্ত্রীর ব্যাংকে কোটি টাকার হিসাব ছাড়াল ১ লাখ ৪১ হাজার কাশফুল শুধু সৌন্দর্য নয়, অনেকের জীবিকাও বটে তাড়াশে গোয়ালঘরের তালা ভেঙে ৮টি গরু চুরি, নিঃস্ব কৃষক পরিবার ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ১৭৩৩ জন ঢাকার দুই সিটিতে জামায়াতের অনানুষ্ঠানিক মেয়র প্রার্থী ঘোষণা চারবার গুলিবিদ্ধ ও তিনবার কারাবরণ: ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আলোচনায় ইশরাক অঙ্গ পাচার চক্রের হাত থেকে ফিরল লোহাগাড়ার রায়হান

জেনেভা-পল্লবী ক্যাম্পে প্রকাশ্যে মাদকের হাট


  • আপলোড সময় : সোমবার ৩০ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৩:৪৩ পিএম

অনলাইন রিপোর্টার

ঢাকার মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্প এবং মিরপুরের পল্লবী ক্যাম্পে দীর্ঘ দশক ধরে উর্দুভাষী অবাঙালি এবং তাদের পরিবার বসবাস করছেন। এদের মধ্যে অধিকাংশই সীমিত আয়ের মানুষ। তবে এই দুটি ক্যাম্পে দীর্ঘদিন ধরে খুন, খারাপ ব্যবহারের পাশাপাশি মাদকের বিস্তার ঘটে আসছে। মাঝে মাঝে অভিযান চালানো হলেও কার্যকর পরিবর্তন দেখা যায় না।

সরেজমিনে দেখা যায়, জেনেভা ক্যাম্পে প্রকাশ্যেই মাদক বিক্রি ও সেবন হচ্ছে। যেন শহরের ভেতরে আরেক শহর, যেখানে আইনশৃঙ্খলার উপস্থিতি প্রায় নেই। মাদকবিক্রেতা ও সেবীদের সঙ্গে কথা বললে তারা নির্বিকারভাবে জবাব দেন। তারা এই জগতের সঙ্গে এমনভাবে জড়িয়ে পড়েছেন যে, সাধারণ জীবনে ফিরে আসা প্রায় অসম্ভব মনে করে। তাদের পরিবারও প্রিয়জনদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আশা ছেড়ে দিয়েছেন।

শুধু জেনেভা নয়, পল্লবী ক্যাম্পেও মাদকের বিস্তার রয়েছে। এখানে নানা ধরনের অপরাধ সংঘটিত হয়। বাসিন্দাদের অভিযোগ, যারা প্রতিবাদ করেন, তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এক বাসিন্দা জানান, “ক্যাম্পে কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি এসবের সঙ্গে জড়িত। প্রতিবাদ করলে গুলি করে মারার হুমকি দেওয়া হয়।”

অন্য একজন বাসিন্দা বলেন, “পুলিশ চাইলে মাদক ব্যবসা বন্ধ করতে পারবে। কিন্তু কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায় না। অনেকে সমাধানের আশ্বাস দেন, কিন্তু পরে অগ্রগতি দেখা যায় না।”

মাদক ও কিশোর গ্যাংমুক্ত সমাজ গড়ার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে জয়নাল আবেদীন ফারুক বলেন, “সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করতে হবে। এটি সামাজিক পরিবর্তনের মূল চাবিকাঠি।”

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কার্যক্রমও অনেকটা দায়সারা বলে অভিযোগ রয়েছে। অধিদপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. বশির আহমেদ বলেন, “শুধু প্রশাসনিক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। অপরাধ দমনে প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং জনসচেতনতা।”

সম্প্রতি পুলিশের অভিযানে কয়েকজন মাদকসেবী ও বিক্রেতাকে আটক করা হয়েছে। তবে মূল কারবারিদের অনেকেই এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। ঢাকা মহানগর পুলিশের ডিসি (মিডিয়া) মো. তালেবুর রহমান জানান, অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। তিনি বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের সর্বাত্মক অভিযান চলবে।”

ক্যাম্পের বাসিন্দারা জানান, বাস্তবিক পরিবর্তন আনতে হলে সরকারকে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে গুরুত্ব দিতে হবে। শুধুমাত্র আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণই যথেষ্ট নয়, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমাধান অপরিহার্য।

মাদক বিক্রেতারা সাধারণভাবে জীবিকা নির্বাহের বিকল্প পথে ফিরতে পারলে এবং স্থানীয় প্রশাসনসহ সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলে মাদক ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। অনেক বাসিন্দা মনে করেন, জনসচেতনতা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি সমাধান আসবে না।

জেনেভা ও পল্লবী ক্যাম্পে সাধারণ জীবনযাত্রা এখনও সীমিত। শিশু ও কিশোররা প্রভাবিত হচ্ছে এবং অনেকেই অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকিতে রয়েছেন। সামাজিক সেবা, পুনর্বাসন কেন্দ্র ও শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে মাদক ও অপরাধমুক্ত সমাজ গঠন সম্ভব।

বাসিন্দাদের অভিমত, অভিযান ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা জরুরি, কিন্তু শিক্ষার সুযোগ ও সামাজিক সহায়তা ব্যতীত প্রকৃত পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি মানুষের জীবনমান উন্নত করতে হবে।

আকাশজমিন / আরআর 



এ সম্পর্কিত আরো খবর