অনলাইন রিপোর্টার
সরকার দেশের জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত ও পাচার রোধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এবার থেকে কেউ যদি জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুতকারী বা পাচারকারীদের বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে সঠিক তথ্য প্রদান করে সহায়তা করেন, তাহলে সহায়তাকারীর জন্য সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সোমবার এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই ঘোষণা দিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, যারা অবৈধভাবে তেল মজুত করে বা বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে, তাদের শনাক্ত করতে জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সরকারের উদ্দেশ্য। এই অংশগ্রহণই এখন পুরস্কারের জন্য একমাত্র যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, তথ্যের সত্যতা যাচাই সাপেক্ষে দ্রুততম সময়ে পুরস্কারের অর্থ প্রদান করা হবে। প্রশাসন চাইবে, জনগণ তেলের অবৈধ মজুত ও পাচারের ক্ষেত্রে নজরদারি রাখুন এবং যেসব ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এসব কার্যক্রমে লিপ্ত, তাদের বিষয়ে সঠিক ও যাচাইযোগ্য তথ্য সরবরাহ করুন।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের তেল বাজারে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনা এবং কৃত্রিম সংকট প্রতিরোধ করা হবে। জনগণকে প্রণোদনা দেওয়ার মাধ্যমে অবৈধ কার্যক্রমের তথ্য সহজে প্রশাসনের কাছে পৌঁছাবে। ফলে সরকারের নজরদারি কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে।
তেলের অবৈধ মজুত ও পাচারের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই প্রশাসন বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করছে। তবে বাজারে এখনও কিছু অপরাধী এ ধরনের কার্যক্রম চালাচ্ছে। তাই সাধারণ মানুষকে এই উদ্যোগে অংশ নেওয়ার জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে। সরকারি সূত্র জানাচ্ছে, স্থানীয় প্রশাসনকে সরাসরি তথ্য প্রদানকারী যেকোনো ব্যক্তি যাতে নিরাপদে অংশ নিতে পারে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এছাড়া, সরকার আশা করছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে তেলের মজুত ও পাচারের সঙ্গে জড়িত শক্তিশালী গোষ্ঠীও সনাক্ত করা সম্ভব হবে। প্রশাসন ইতিমধ্যেই পুরস্কার প্রক্রিয়া ও তথ্য যাচাইয়ের জন্য কার্যক্রম শুরু করেছে। তথ্য যাচাইয়ের পরে নির্ধারিত অর্থ দ্রুততম সময়ে প্রদান করা হবে।
অবৈধ তেল মজুত বা পাচারের তথ্য প্রদানের ক্ষেত্রে সাধারণ জনগণকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কেউ যদি তথ্য দেয়, তবে তার পরিচয় গোপন রাখা হবে এবং নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।
সরকার আশা করছে, জনগণ এই উদ্যোগে 적극ভাবে অংশ নেবে। এতে শুধু তেলের বাজার স্থিতিশীল হবে না, বরং নাগরিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তাও বৃদ্ধি পাবে।
আকাশজমিন / আরআর