ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরলো বঙ্গবন্ধুর একক ছবি, যুক্ত হলো জিন্নাহ ও জুলাই অভ্যুত্থান মমেকের ৩য় তলায় শিশু ওয়ার্ডে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস শিল্পে গ্যাস সরবরাহ মঙ্গলবার থেকেই স্বাভাবিক হওয়ার আশা প্রধানমন্ত্রীর ব্যাংকে কোটি টাকার হিসাব ছাড়াল ১ লাখ ৪১ হাজার কাশফুল শুধু সৌন্দর্য নয়, অনেকের জীবিকাও বটে তাড়াশে গোয়ালঘরের তালা ভেঙে ৮টি গরু চুরি, নিঃস্ব কৃষক পরিবার ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ১৭৩৩ জন ঢাকার দুই সিটিতে জামায়াতের অনানুষ্ঠানিক মেয়র প্রার্থী ঘোষণা চারবার গুলিবিদ্ধ ও তিনবার কারাবরণ: ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আলোচনায় ইশরাক অঙ্গ পাচার চক্রের হাত থেকে ফিরল লোহাগাড়ার রায়হান

লাখ টাকার ক্রীড়া ভাতা: জাতীয় খেলোয়াড়দের আর্থিক স্বস্তি


  • আপলোড সময় : সোমবার ৩০ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৫:০৪ পিএম

প্রথমবারের মতো সরকারের উদ্যোগে ক্রীড়াবিদদের জন্য ক্রীড়া ভাতা চালু করা হয়েছে। আজ সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজ কার্যালয়ে ১২৯ জন ক্রীড়াবিদকে ১ লাখ টাকা করে ভাতা এবং ক্রীড়া কার্ড প্রদান করেন। একই সঙ্গে গত এক বছরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্য অর্জনকারী খেলোয়াড়দের আর্থিকভাবে পুরস্কৃত করা হয়।

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানান, এপ্রিল থেকে পর্যায়ক্রমে ৫০০ জন ক্রীড়াবিদকে বেতন কাঠামোর আওতায় আনা হবে। সরকারি এই উদ্যোগ খেলোয়াড়দের জন্য আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং খেলার প্রতি মনোযোগ বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে। খেলোয়াড়েরা ইতিমধ্যেই এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেছেন, এতে নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং সবাই চাইবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভালো করতে।

গত নভেম্বরে ইসলামিক সলিডারিটি গেমসে টেবিল টেনিসের মিশ্র দ্বৈতে রুপাজয়ী খই খই সাই মারমা বলেন, “এখন তো নিজেদের মধ্যেই প্রতিযোগিতা হবে। আমরা যারা তালিকায় আছি, তারা পারফরম্যান্স ধরে রাখতে চেষ্টা করব। যারা বাইরে, তারা ভালো করে ভাতার আওতায় আসার জন্য উৎসাহিত হবে। আমরা এটাকে ইতিবাচক চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিচ্ছি।”

খেলোয়াড়দের জীবনে অর্থনৈতিক চাপ সবসময় বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করেছে। অনেকেই পরিবার চালানো, প্রশিক্ষণ ব্যয় মেটানো, পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করা বা যাতায়াতের খরচ সামলাতে হিমশিম খেতেন। ফলে অনেক প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদ মাঝপথেই খেলা ছাড়তে বাধ্য হতেন। নতুন ক্রীড়া ভাতা কার্যক্রম সেই বাস্তবতায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে।

সাবেক দ্রুততম মানব মোহাম্মদ ইসমাইল বলেন, “একজন অ্যাথলেটের ফিটনেস বজায় রাখতে, পুষ্টির চাহিদা মেটাতে মাসে ৩০–৪০ হাজার টাকা লাগে। আমরা পারফরম্যান্স করব নাকি টাকার জন্য চিন্তা করব? সরকারের এই উদ্যোগ আমাদের জন্য খুবই কাজে দেবে। টাকার জন্য কেউ খেলা ছাড়বে না, কেউ আর্থিক সমস্যা নিয়ে ভাববে না, সবার লক্ষ্য থাকবে ভালো পারফর্ম করা।”

সম্প্রতি এশিয়া কাপ আর্চারির (স্টেজ-১) কম্পাউন্ড পুরুষ দলগত ইভেন্টে সোনাজয়ী আর্চার হিমু বাছাড় বলেন, ভাতাপদ্ধতি চালু হওয়ায় খেলার প্রতি সবার আগ্রহ আরও বাড়বে। “সরকার সত্যি দুর্দান্ত পদক্ষেপ নিয়েছে। এখন থেকে খেলোয়াড়েরা পারফর্ম করতে আরও উৎসাহিত হবে। পাইপলাইনে যারা আছে, তারা আমাদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।”

আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে অনেক পরিবার তাদের সন্তানকে পেশাদারভাবে খেলাধুলা করতে নিরুৎসাহিত করত। জাতীয় ব্যাডমিন্টন দলের তারকা খেলোয়াড় আল-আমিন জুমার মনে করেন, এখন যুবরা আরও বেশি আগ্রহী হবে। “আগে পরিবার থেকেও বাধা আসত, এখন সবাই খেলাধুলা দিয়েই ভবিষ্যৎ গড়তে চাইবে। তবে এটি আনন্দের পাশাপাশি চ্যালেঞ্জিংও, কারণ জুনিয়ররা আমার জায়গায় আসার চেষ্টা করবে, আমিও পারফরম্যান্স ধরে রাখতে চাইব।”

খেলোয়াড়রা মনে করছেন, আর্থিক নিরাপত্তা মানসিক চাপ কমাবে, যা পারফরম্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তবে পারফরম্যান্স ধরে রাখতে উন্নত অবকাঠামো, বৈজ্ঞানিক প্রশিক্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।

সকল খেলোয়াড়ই বলেন, সরকারি ভাতা কার্যক্রম শুধু অর্থ নয়, এটি তাদের খেলার জন্য মনোবল ও উৎসাহ প্রদান করছে। এই ভাতার মাধ্যমে জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা আরও পেশাদার মনোভাব নিয়ে খেলা চালিয়ে যেতে পারবেন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের মর্যাদা উঁচুতে নিয়ে যেতে সক্ষম হবেন।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর