ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

মার্চে মোট ২২ হাজার টন

ভারত থেকে এলো আরও ৭ হাজার টন ডিজেল


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ৩১ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৫:৫৭ পিএম

ভারত থেকে এলো আরও ৭ হাজার টন ডিজেল

দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানি অব্যাহত রেখেছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় ভারতের নুমালীগড় থেকে ৭ হাজার মেট্রিক টন ডিজেলের একটি নতুন চালান দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলহেড ডিপোতে পৌঁছেছে। এর ফলে মার্চ মাসে ভারত থেকে মোট ডিজেল আমদানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার মেট্রিক টনে।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকাল ৯টার দিকে এই চালানটি ডিপোতে পৌঁছেছে বলে নিশ্চিত করেছেন পার্বতীপুর পদ্মা ওয়েল পিএলসি রেলহেড ডিপোর ডেপুটি ম্যানেজার (অপারেশন) আহসান হাবিব চৌধুরী। তিনি জানান, গত শনিবার (২৮ মার্চ) সকাল ৭টা থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল পাঠানো শুরু হয়। প্রায় ১৪৬ ঘণ্টা সময় নিয়ে ভারতের নুমালীগড় রিফাইনারিজ লিমিটেড থেকে এই জ্বালানি বাংলাদেশে পৌঁছায়।

বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে এই আমদানি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। পাইপলাইনটির মাধ্যমে সরাসরি জ্বালানি পরিবহন হওয়ায় সময় ও ব্যয়—দুইই সাশ্রয় হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও নিরবচ্ছিন্ন ও স্থিতিশীল করতে সহায়তা করছে।

এর আগে চলতি মাসের ১১ মার্চ প্রথম দফায় ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল পার্বতীপুর ডিপোতে আসে। পরবর্তীতে দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপে আরও ১০ হাজার টন ডিজেল আমদানি করা হয়। সব মিলিয়ে প্রথম তিন ধাপে ১৫ হাজার টন এবং সর্বশেষ ৭ হাজার টনসহ মার্চ মাসে মোট ২২ হাজার টন ডিজেল আমদানি সম্পন্ন হয়েছে।

জ্বালানি খাতে সরকারের এই উদ্যোগকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পাইপলাইনের মাধ্যমে সরাসরি ডিজেল আমদানি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে বড় ভূমিকা রাখছে। এতে করে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার প্রভাব কিছুটা হলেও মোকাবিলা করা সম্ভব হচ্ছে।

এদিকে, এপ্রিল মাসেও ভারত থেকে ডিজেল আমদানি অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। জ্বালানি নিরাপত্তার অংশ হিসেবে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কম্পানি ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন লিমিটেড (আইওসিএল) এবং আসামের নুমালীগড় রিফাইনারি লিমিটেডের কাছ থেকে আরও ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতি সপ্তাহে ১০ হাজার টন করে ডিজেল বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে পার্বতীপুর রিসিপ্ট টার্মিনালে পৌঁছাবে। এই ধারাবাহিক সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে দেশের জ্বালানি খাতে স্থিতিশীলতা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা অনেক দেশের জন্যই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ বিকল্প ও নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছে। ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানি সেই উদ্যোগেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই ধরনের দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা শুধু জ্বালানি নিরাপত্তাই নিশ্চিত করবে না, বরং দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককেও আরও শক্তিশালী করবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর