অনলাইন রিপোর্টার
জাতীয় সংসদে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্যদের প্রশ্নের জবাব দিতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংসদের কার্যতালিকা অনুযায়ী বুধবার (১ এপ্রিল) তার জন্য বিশেষভাবে ৩০ মিনিট সময় বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
সংসদ সচিবালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে প্রধানমন্ত্রীর এ কার্যসূচির বিষয়টি জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আজকের দিনের সংসদীয় কার্যতালিকায় প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে সংসদ সদস্যরা সরাসরি বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করতে পারবেন এবং প্রধানমন্ত্রী সেগুলোর জবাব দেবেন।
সংসদীয় কার্যক্রমে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংসদ সদস্যদের প্রশ্নের জবাব দেওয়ার এই উদ্যোগের মাধ্যমে সংসদীয় জবাবদিহিতা আরও জোরদার হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এর আগে সংসদে নির্দিষ্ট দিনে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব আয়োজনের প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছিল। বুধবার সংসদের মুলতবি অধিবেশনে বক্তব্যকালে এক সংসদ সদস্য এ প্রস্তাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করেন।
ওই সংসদ সদস্য তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, সংসদের কার্যক্রম আরও সুসংগঠিত ও কার্যকর করতে সপ্তাহের একটি নির্দিষ্ট দিন প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বের জন্য নির্ধারণ করা যেতে পারে। বিশেষ করে বুধবার দিনটি প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তরের জন্য নির্ধারণ করা হলে সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালনা আরও সহজ হবে বলে তিনি মত দেন।
প্রস্তাবটি উত্থাপনের পর বিষয়টি সংসদের স্পিকার মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) হাফিজ উদ্দিন আহমদের নজরে আনা হয়। তিনি বিষয়টি বিবেচনার জন্য রেফার করার নির্দেশ দেন এবং পরে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান।
সংসদ সচিবালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, সংসদের কার্যতালিকায় আজ প্রধানমন্ত্রীর জন্য ৩০ মিনিট সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেবেন।
সংসদ সদস্যদের প্রশ্নোত্তর পর্ব সংসদীয় গণতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন সমস্যা, উন্নয়ন পরিকল্পনা, নীতি নির্ধারণ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে সংসদ সদস্যরা সরাসরি প্রশ্ন করতে পারেন। একই সঙ্গে সরকার প্রধান এসব প্রশ্নের উত্তর দিয়ে সংসদের কাছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংসদে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি প্রশ্নোত্তর পর্ব চালু হলে সংসদীয় বিতর্ক ও আলোচনার পরিসর আরও বিস্তৃত হবে। এতে সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যরা বিভিন্ন জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরাসরি মতামত ও প্রশ্ন উত্থাপনের সুযোগ পাবেন।
এছাড়া সংসদের কার্যক্রম আরও গতিশীল ও কার্যকর করার ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
আজকের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব ঘিরে সংসদ সদস্যদের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনেক সদস্যই বিভিন্ন জাতীয় ইস্যু নিয়ে প্রশ্ন করার প্রস্তুতি নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
সংসদ সচিবালয়ের সূত্র জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এই প্রশ্নোত্তর পর্ব পরিচালিত হবে এবং সংসদের কার্যবিধি অনুযায়ী পুরো কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।