অনলাইন রিপোর্টার
রাজধানীর শ্যামপুর এলাকায় অবস্থিত আরএসএম স্টিল মিলে বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনায় আটজন শ্রমিক দগ্ধ হয়েছেন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। ঘটনার পর কারখানা এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
বুধবার (১ এপ্রিল) সকাল প্রায় দশটার দিকে দগ্ধ শ্রমিকদের হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের শরীরে তুলনামূলক বেশি দগ্ধ হওয়ার কারণে তাদের বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
দগ্ধ শ্রমিকরা হলেন— হীরা (৩৫), মানিক (৪৫), রাজিব আলী (২৯), আরশাদ (৪৫), খলিলুর রহমান (৫৬), মো. লিটন (৩২), মতিউর রহমান (২২) ও ইউসুফ (৪০)। তারা সবাই কারখানার বিভিন্ন বিভাগে কাজ করতেন বলে জানা গেছে।
জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আরএসএম স্টিল মিল থেকে দগ্ধ অবস্থায় আটজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। চিকিৎসকরা দ্রুত তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেন এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেন।
ডা. শাওন বিন রহমান জানান, আহতদের মধ্যে হীরার শরীরের প্রায় ১৭ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। মানিকের শরীরের প্রায় ৪০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে, যা তুলনামূলকভাবে গুরুতর। এছাড়া রাজিব আলীর শরীরের ৪ শতাংশ, আরশাদের ১১ শতাংশ, খলিলুর রহমানের ৯ শতাংশ, মো. লিটনের ৭ শতাংশ, মতিউর রহমানের ১০ শতাংশ এবং ইউসুফের শরীরের প্রায় ৫ শতাংশ অংশ দগ্ধ হয়েছে।
চিকিৎসকরা জানান, প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আটজনের মধ্যে ছয়জনকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে মানিকের শরীরে দগ্ধের পরিমাণ বেশি হওয়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে। পাশাপাশি হীরাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে, যাতে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি পর্যবেক্ষণ করা যায়।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, স্টিল মিলের একটি বয়লারে হঠাৎ ত্রুটি দেখা দেওয়ায় এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের সময় সেখানে কর্মরত শ্রমিকরা আগুন ও তাপের কারণে দগ্ধ হন। তবে কী কারণে বয়লার বিস্ফোরণ ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
কারখানা সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের পরপরই আহত শ্রমিকদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। পাশাপাশি ঘটনাটি তদন্ত করে কারণ নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ ধরনের শিল্প দুর্ঘটনা শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিল্পকারখানায় বয়লারসহ ঝুঁকিপূর্ণ যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
স্থানীয়রা জানান, বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পর আশপাশের এলাকায় কিছু সময়ের জন্য আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কর্মীরা আবার কাজে ফিরতে শুরু করেন।
এ ঘটনায় শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মহল।