২০০৭ সাল থেকে ২০২৫ সালের ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মোট ১ লাখ ৪২ হাজার ৯৮৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তার দাবি, এসব মামলা ছিল মিথ্যা ও হয়রানিমূলক। ইতিমধ্যে এসব মামলার মধ্যে ২৩ হাজার ৮৬৫টি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে।
বুধবার (১ এপ্রিল) সংসদ অধিবেশনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবদুল মান্নানের প্রশ্নের জবাবে এই তথ্য জানান আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, “কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কতগুলো হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করা হয়, তার সরকারি পরিসংখ্যান নেই। তবে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মোট কতটি মামলা হয়েছিল, সে বিষয়ে তথ্য আমরা পেয়েছি।”
আইনমন্ত্রী আরও জানান, বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সাল থেকে ২০২৫ সালের ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এক লাখ ৪২ হাজার ৯৮৩টি মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা করা হয়েছে। তিনি বলেন, “বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০২৬ সালের ৫ মার্চ পর্যন্ত রাজনৈতিক কারণে করা হয়রানিমূলক মামলাগুলো প্রত্যাহারের লক্ষ্যে জেলা পর্যায়ে চার সদস্যবিশিষ্ট কমিটি পুনর্গঠন করা হয়।”
মামলা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া সম্পর্কে আইনমন্ত্রী বিস্তারিত তথ্য দেন। তিনি বলেন, “জেলা কমিটি মামলা প্রত্যাহারের আবেদনপত্র, এজাহার এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে চার্জশিটের সার্টিফাইয়েড কপি ও পাবলিক প্রসিকিউটরের মতামত যাচাই করে দেখে যে মামলা রাজনৈতিক হয়রানির উদ্দেশ্যে করা হয়েছে কিনা। যদি দেখা যায়, জনস্বার্থে মামলা চালানোর প্রয়োজন নেই এবং মামলা চালালে রাষ্ট্রের ক্ষতি হবে, তবে ওই কমিটি সরকারের কাছে মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করে।”
আইনমন্ত্রী জানান, জেলা কমিটির সুপারিশ যাচাই-বাছাই করে ২০২৬ সালের ৮ মার্চ আরেকটি ছয় সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
তিনি উল্লেখ করেন, এ পর্যন্ত রাজনৈতিক কারণে করা মোট ২৩ হাজার ৮৬৫টি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। যেসব হয়রানিমূলক মামলা এখনও প্রত্যাহার হয়নি, সেগুলোর কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে।
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “সরকার সব ধরনের রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলার অবসান নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জেলা পর্যায়ে ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে গঠিত কমিটিগুলো এই প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে প্রভাবিত করে। আইনমন্ত্রী এ উদ্যোগের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ন্যায্য অধিকার সুরক্ষার দিকে গুরুত্ব দিয়েছেন।