ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

ফ্যামিলি কার্ডে আগামী অর্থবছরে লাগবে ১৩ হাজার কোটি টাকা


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ০২ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৩:২৫ পিএম

অনলাইন রিপোর্টার

সরকার আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশের ৪০ লাখ পরিবারের নারীপ্রধানকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রদান করার পরিকল্পনা করছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন ইতোমধ্যেই এই অর্থ বরাদ্দ চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে আধা সরকারি পত্র জমা দিয়েছেন।

ফ্যামিলি কার্ড হলো ক্ষমতায়নমূলক একটি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, যার মাধ্যমে নিম্ন আয়ের পরিবারে থাকা নারীদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করা হবে। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে এই উদ্যোগকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ১০ মার্চ রাজধানীর বনানীর কড়াইল বস্তিসংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।

বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশের ৪০ লাখ নারীপ্রধান পরিবারের জন্য ভাতা বা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নিশ্চিত করতে ফ্যামিলি কার্ড ব্যবহৃত হবে। নির্বাচনী ইশতেহারে বিএনপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা বা সমমূল্যের পণ্য সরবরাহ করা হবে।

ফ্যামিলি কার্ডের পাইলট প্রকল্প ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় আপাতত ৩৭,৫৬৭ জন নারী পাইলট কার্যক্রমে ফ্যামিলি কার্ড পেয়েছেন। পরীক্ষা পর্যায়ে চার মাসের জন্য ৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। আগামী অর্থবছরে পুরো কার্যক্রম বাস্তবায়নে ১৩ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে।

সংশ্লিষ্ট আধা সরকারি পত্রে বলা হয়েছে, নারীর ক্ষমতায়ন, অধিকার, মর্যাদা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে পরিবার ভিত্তিক এই যুগান্তকারী উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ে এই টাকা কীভাবে বরাদ্দ দেওয়া হবে তা নিয়ে সভা হয়েছে। চলতি বছরের ২৫ মার্চ অনুষ্ঠিত বৈঠকে টিআর, কাবিখা ও মানবিক সহায়তার বাজেট থেকে ফ্যামিলি কার্ডে টাকা স্থানান্তর করা যেতে পারে বলে আলোচনা হয়। বৈঠকে বলা হয়, অন্তঃপ্রকল্প দ্বৈততা বন্ধ করা জরুরি। একই সঙ্গে অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কার্যক্রমের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানো হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এবং সানেমের নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান বলেন, দেশের অর্থনীতি সংকটের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। তবে এর জন্য আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া, উপকারভোগীদের মধ্যে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি অন্তর্ভুক্ত না হয় এবং কোনো অনিয়ম না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে।

তারা আরও বলেন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এত বড় বাজেট পরিচালনার অভিজ্ঞতা নেই। তাই কার্যক্রম বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিশেষ পরিকল্পনা ও মনিটরিং অপরিহার্য। ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমকে কেন্দ্রীয় ডেটাবেজের মাধ্যমে পরিচালনা করা হলে দ্বৈততা কমানো সম্ভব হবে। বর্তমানে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ১০০টির বেশি ভিন্ন প্রকল্প রয়েছে। এসব খাতে সংস্কার আনা প্রয়োজন।

অর্থমন্ত্রী ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী বৈঠকে এই অর্থ বরাদ্দ এবং কার্যক্রমের সুসংহত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে। আগামী অর্থবছরে ৭ হাজার ৯৪৩ কোটি টাকা টিআর, কাবিখা ও মানবিক সহায়তা কর্মসূচিতে বরাদ্দ থাকবে, যা থেকে ফ্যামিলি কার্ডে অংশ স্থানান্তর করা হতে পারে।

ফ্যামিলি কার্ড পুরোপুরি কার্যকর হলে নারীদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং দেশের সামাজিক ন্যায় ও উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়ক হবে।



এ সম্পর্কিত আরো খবর