অনলাইন রিপোর্টার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় প্রচেষ্টায় সরকারকে সহযোগিতা করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি ঘোষণা করেছে, যে রাজধানীসহ দেশের সব দোকান, বাণিজ্য বিতান ও শপিংমল রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ থাকবে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সংগঠনটির এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুর রহমান টিপু জানিয়েছেন, এটি ব্যবসায়ীদের নিজস্ব উদ্যোগ। সরকার থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা আসেনি। তবে সমিতি আশাবাদ ব্যক্ত করেছে, সারা দেশের ব্যবসায়ীরা এই সিদ্ধান্ত মেনে চলবেন।
সংগঠনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি ও ঢাকা মহানগর দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির স্ট্যান্ডিং কমিটির যৌথ সভায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারকে সহযোগিতা করতে রাত ৮টার মধ্যে দোকান, বাণিজ্য বিতান ও শপিংমল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, হোটেল, ফার্মেসি, জরুরি প্রয়োজনীয় সেবার দোকান এবং কাঁচাবাজার এই সিদ্ধান্তের আওতামুক্ত থাকবে। এটি নিশ্চিত করবে, সাধারণ জনগণের জন্য জরুরি সেবা ও খাদ্য সরবরাহে কোনো ব্যাঘাত ঘটবে না।
মো. আরিফুর রহমান টিপু বলেন, “এটি আমাদের নিজস্ব উদ্যোগ। আমরা চাই দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে। দোকানসমূহ রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ রাখা হলে সরকারী প্রচেষ্টার সঙ্গে আমাদের সহযোগিতা নিশ্চিত হবে।”
সমিতি জানিয়েছে, এই উদ্যোগকে সফল করতে ব্যবসায়ীদের মধ্যে সমন্বয় রাখা হবে। সংগঠনটি সব সদস্যকে অনুরোধ করেছে, তারা নির্ধারিত সময়মতো দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশনা মেনে চলবেন। এছাড়া, যারা জরুরি সেবা প্রদান করে, তাদের ব্যবসা স্বাভাবিক থাকবে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় এবং সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সমিতির এই পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। তারা মনে করেন, নিয়মিতভাবে সময়মতো দোকান বন্ধ রাখার মাধ্যমে দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় চাপ কমবে এবং সাশ্রয় কার্যকর হবে।
এই সিদ্ধান্তকে বাস্তবায়নে সমিতি নিয়মিত মনিটরিং করবে এবং নিশ্চিত করবে যে, নির্দেশনার ব্যত্যয় হচ্ছে না। এছাড়া, দেশের অন্যান্য শহরে এবং উপজেলার দোকান মালিকরাও এই উদ্যোগকে অনুসরণ করার জন্য উৎসাহিত করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশব্যাপী এই উদ্যোগ ব্যবসায়ীদের সচেতনতা বৃদ্ধি করবে এবং দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে সহায়ক হবে। সমিতি প্রত্যাশা করছে, জনগণও এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করবে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থাকে সমর্থন করার পাশাপাশি সামাজিক দায়িত্বও পালন করছে। সমিতি আশাবাদী, অন্যান্য শহরের দোকান মালিকরাও এই পদক্ষেপ অনুসরণ করবেন এবং দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে।