ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

১৭ লাখ টন জ্বালানি আমদানিতে জরুরি বৈঠক আজ


  • আপলোড সময় : শনিবার ০৪ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৩:৩৭ পিএম

দেশে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিজেল ও অকটেন আমদানির লক্ষ্যে জরুরি বৈঠকে বসছে সরকার। সরকারি ছুটির দিন শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হবে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি ও সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির যৌথ বৈঠক। বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মোট ১৭ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানির প্রস্তাব এই বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। প্রথমে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে প্রস্তাবটি নীতিগত অনুমোদনের জন্য তোলা হবে। সেখানে অনুমোদন পাওয়া গেলে পরবর্তী সময়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।

জানা গেছে, প্রস্তাবিত ১৭ লাখ টন জ্বালানির মধ্যে প্রায় ১৬ লাখ টনই ডিজেল এবং বাকি ১ লাখ টন অকটেন। এই বিপুল পরিমাণ জ্বালানি আমদানির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে আন্তর্জাতিক বাজারের অনিশ্চয়তা এবং ভবিষ্যৎ চাহিদা বিবেচনায় রেখে।

বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে আগাম প্রস্তুতি হিসেবে জ্বালানি মজুত বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে বলে মনে করছে সরকার। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সম্ভাব্য সরবরাহ সংকট মোকাবিলায় আগে থেকেই পরিকল্পিত পদক্ষেপ নেওয়ার লক্ষ্যেই এই জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে।

ক্রয় কমিটির বৈঠকে কয়েকটি আন্তর্জাতিক কোম্পানির কাছ থেকে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে জ্বালানি তেল আমদানির প্রস্তাব উপস্থাপন করা হতে পারে। এর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক DBS Trading House FZCO থেকে ১০ লাখ টন ডিজেল ও ১ লাখ টন অকটেন আমদানির প্রস্তাব রয়েছে। এছাড়া Maxwell International SPC থেকে ১ লাখ টন ডিজেল এবং কাজাখস্তানের Kazakh Gas Processing Plant LLP থেকে ৫ লাখ টন ডিজেল আমদানির প্রস্তাবও আলোচনায় আসতে পারে।

এর আগে গত ৩১ মার্চ অনুষ্ঠিত ক্রয় কমিটির বৈঠকে ২ লাখ ৬০ হাজার টন জ্বালানি তেল আমদানির একটি প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছিল। নতুন এই প্রস্তাব অনুমোদিত হলে দেশের জ্বালানি মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন বা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি এপ্রিল মাসে দেশে ডিজেলের চাহিদা প্রায় সাড়ে তিন লাখ টন। এই প্রেক্ষাপটে ১৭ লাখ টন জ্বালানি আমদানির পরিকল্পনা ভবিষ্যৎ চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রস্তাব অনুমোদিত হলে আগামী মে ও জুন মাসের মধ্যে এসব জ্বালানি দেশে পৌঁছাতে পারে। তবে এর আগে বেশ কিছু প্রশাসনিক ও আর্থিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। ক্রয় কমিটিতে অনুমোদনের পর সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে পারফরম্যান্স গ্যারান্টি (পিজি) গ্রহণ করবে বিপিসি। এরপর ঋণপত্র (এলসি) খোলা হবে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যাদেশ প্রদান করা হবে।

এ বিষয়ে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব ও মুখপাত্র মনির হোসেন চৌধুরী জানিয়েছেন, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই জরুরি বৈঠক আয়োজন করা হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে অকটেনের সরবরাহে কোনো সংকট নেই এবং অন্তত তিন মাসের চাহিদা পূরণের মতো মজুত রয়েছে। একইভাবে চলতি এপ্রিল মাসে ডিজেলের ক্ষেত্রেও কোনো তাৎক্ষণিক সংকট নেই বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

তবে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আগাম প্রস্তুতি গ্রহণকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে সরকার। কারণ বৈশ্বিক বাজারে হঠাৎ মূল্য বৃদ্ধি বা সরবরাহ বিঘ্নিত হলে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে তার প্রভাব পড়তে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও মজুত ব্যবস্থাপনা জোরদার করা এখন সময়ের দাবি। বিশেষ করে বৈশ্বিক রাজনৈতিক অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা বেড়ে যাওয়ায় বিকল্প উৎস ও সরবরাহ চেইন নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে উঠেছে।

সব মিলিয়ে, ১৭ লাখ টন জ্বালানি আমদানির এই উদ্যোগকে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারের একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বৈঠকের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে আগামী দিনের জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি কতটা স্থিতিশীল থাকবে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর