অনলাইন রিপোর্টার
র্যাব থাকবে কি না বা সংস্থাটির নাম পরিবর্তন করা হবে কি না—সে সিদ্ধান্ত পুরোপুরি সরকারের ওপর নির্ভরশীল বলে জানিয়েছেন র্যাব মহাপরিচালক আহসান হাবীব। তবে ব্যক্তিগতভাবে তিনি মনে করেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে র্যাবের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
দায়িত্ব গ্রহণের পর আজ রবিবার প্রথমবারের মতো রাজধানীর কাওরানবাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ মন্তব্য করেন। এ সময় তিনি র্যাবের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম, সম্ভাব্য সংস্কার, মানবাধিকার সংক্রান্ত অভিযোগ এবং বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
র্যাবের পুনর্গঠন, সংস্কার বা নাম পরিবর্তনের বিষয়ে আহসান হাবীব বলেন, এগুলো সম্পূর্ণভাবে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের বিষয়। এই ধরনের বিষয়ে র্যাবের পক্ষ থেকে আলাদা কোনো উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজন নেই। বর্তমানে সংস্থাটির প্রধান অগ্রাধিকার হলো দায়িত্বশীলভাবে কাজ করা এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখা।
মানবাধিকার লঙ্ঘন বা অন্য কোনো অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাহিনীর ভেতরে এমন অভিযোগ উঠলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হয়। কোনো অভিযোগের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয় না এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে ধীরে ধীরে র্যাবের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগগুলো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
র্যাবের প্রয়োজনীয়তা প্রসঙ্গে মহাপরিচালক বলেন, এটি একটি বিশেষায়িত বাহিনী এবং দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তিনি জানান, র্যাব মূলত পুলিশেরই একটি অংশ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করে থাকে। বাইরে থেকে অনেক সময় যে ধারণা তৈরি হয়, বাস্তবে র্যাব একটি সুসংগঠিত ও কাঠামোবদ্ধ বাহিনী বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আহসান হাবীব আরও বলেন, র্যাবকে একটি পেশাদার, মানবিক ও প্রযুক্তিনির্ভর বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে অপরাধ দমন ও প্রতিরোধে বাহিনীকে আরও দক্ষ করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। ভবিষ্যতে র্যাব আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ক্রসফায়ার সংক্রান্ত মামলার নথি চাওয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিচারপ্রক্রিয়ার স্বার্থে কোনো সংস্থা তথ্য বা সহায়তা চাইলে র্যাব সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে। সংস্থার কাছে থাকা তথ্য আইন অনুযায়ী সরবরাহ করা হবে। তবে যে তথ্য র্যাবের কাছে নেই বা দেওয়ার সক্ষমতার বাইরে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের যথাযথভাবে অবহিত করা হবে।
র্যাবের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা এবং দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থার সমালোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংস্থাটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে কিছু বিচ্যুতি বা ভুলত্রুটি থাকতে পারে। তবে সেই বিষয়গুলো সংশোধনের মাধ্যমে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।
মহাপরিচালক আরও দাবি করেন, গত দেড় বছরে র্যাবের কার্যক্রমে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। ধারাবাহিকভাবে ভালো কাজের মাধ্যমে ভবিষ্যতে এসব বিতর্ক ও সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে র্যাবকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব বাহিনীতে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে করে দেশের মানুষ র্যাবের ওপর আরও বেশি আস্থা রাখতে পারবে বলে তিনি মনে করেন।
শেষে আহসান হাবীব বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং অপরাধ দমনে র্যাব ভবিষ্যতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। একই সঙ্গে বাহিনীকে আধুনিক ও পেশাদার হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।