ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

প্রতি বর্গমিটারে খরচ ৫৩ হাজার টাকা

সচিবালয়ে ২১ তলা নতুন ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা


  • আপলোড সময় : রবিবার ০৫ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৭:১৯ পিএম

অনলাইন রিপোর্টার

দেশের প্রশাসনিক কেন্দ্র সচিবালয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অফিস সম্প্রসারণের জন্য নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদ্যমান ১ নম্বর ভবনকে ভূমিকম্পের ঝুঁকির কারণে ভেঙে ২১ তলা ভবন নির্মাণ করা হবে। নতুন ভবনের মাধ্যমে ২ লাখ ৮৭ হাজার বর্গফুট অফিস স্পেস তৈরি হবে, যার প্রতি বর্গমিটারে খরচ ধরা হয়েছে ৫২ হাজার ৭০৪ টাকা। স্থাপত্যবিশেষজ্ঞরা এই খরচকে অত্যধিক ও অপচয় বলছেন।

নতুন ভবনের প্রকল্প প্রস্তাব ইতিমধ্যেই পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। বিএনপি সরকারের প্রথম জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা আগামী ৬ এপ্রিল সোমবার অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে ১৭টি প্রকল্পের মধ্যে নতুন ভবনের প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করা হবে। ভবনটি ২০২৯ সালের জুনের মধ্যে নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে এবং মোট খরচ প্রস্তাব ধরা হয়েছে ৬৪৯ কোটি টাকা।

স্থাপত্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সচিবালয়ে ইতিমধ্যেই অধিক সংখ্যক ভবন থাকায় আশপাশের রাস্তায় গাড়ি পার্কিং সমস্যা দেখা দিচ্ছে। তাই নতুন ভবন নির্মাণের সময় আলাদা পার্কিং সুবিধা রাখা উচিত। স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, মাস্টারপ্ল্যান ছাড়া এ ধরনের অ্যাডহক ভিত্তিতে ভবন নির্মাণ রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয়।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, বর্তমানে সচিবালয়ে ৯ লাখ ৯৯ হাজার ৯৭২ বর্গফুট অফিস স্পেস আছে, তবে অতিরিক্ত চাহিদা রয়েছে আরও ৬ লাখ ৮০ হাজার বর্গফুটের। নতুন ভবন নির্মাণ হলে চাহিদার ৪২ শতাংশ পূরণ করা যাবে। ভবনে সচিবালয়ের বাইরে থাকা বিভিন্ন অফিসকে স্থান বরাদ্দ দেওয়া হবে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সচিব এস এম শাকিল আখতার জানান, সচিবালয়ের বেশ কিছু ভবন পাকিস্তান আমলের, যা ৬০ বছরের বেশি পুরনো। ৬ মাত্রার ভূমিকম্পে এগুলো ধসে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। নতুন ভবনে প্রায় ২০০ গাড়ি পার্ক করা যাবে।

নতুন ভবন ২১ তলা ও ৪ তলা বেজমেন্টসহ মোট ২৫ তলা হবে, যার জন্য ৩৬১ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। মোট প্রকল্প ব্যয়ের ৫৬ শতাংশ অর্থাৎ প্রতি বর্গমিটারে খরচ পড়বে ৫২ হাজার ৭০৪ টাকা। ২৪০০ টনের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণে খরচ ৬০ কোটি এবং ১৪টি লিফটের জন্য ৩১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

ভবনে ৬টি যাত্রীবাহী লিফট, ২টি বেড লিফটসহ মোট ১৪টি লিফট থাকবে। স্বয়ংক্রিয় ফায়ার ডিটেকশন ও প্রটেকশন ব্যবস্থা, ২০টি কনফারেন্স রুম, চারটি বেজমেন্ট পার্কিং সুবিধা, ৩২০ কিলোওয়াট সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা, জলাধার ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, বিদ্যুৎ সরবরাহে দুটি সাবস্টেশন এবং পাঁচটি জেনারেটর থাকবে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে গণপূর্ত অধিদপ্তর। কর্মকর্তা আবু নাসের চৌধুরী জানান, যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিলের লিড সনদের আদলে সবুজ ও আধুনিক প্রযুক্তির ভবন তৈরি করা হবে।

সচিবালয়ে মোট ১১টি ভবন রয়েছে। ১ নম্বর ভবনে আগে মন্ত্রিপরিষদ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অফিস ছিল, এখন নতুন ভবনে স্থানান্তর করা হয়েছে।



এ সম্পর্কিত আরো খবর