ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মমেকের ৩য় তলায় শিশু ওয়ার্ডে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস শিল্পে গ্যাস সরবরাহ মঙ্গলবার থেকেই স্বাভাবিক হওয়ার আশা প্রধানমন্ত্রীর ব্যাংকে কোটি টাকার হিসাব ছাড়াল ১ লাখ ৪১ হাজার কাশফুল শুধু সৌন্দর্য নয়, অনেকের জীবিকাও বটে তাড়াশে গোয়ালঘরের তালা ভেঙে ৮টি গরু চুরি, নিঃস্ব কৃষক পরিবার ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ১৭৩৩ জন ঢাকার দুই সিটিতে জামায়াতের অনানুষ্ঠানিক মেয়র প্রার্থী ঘোষণা চারবার গুলিবিদ্ধ ও তিনবার কারাবরণ: ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আলোচনায় ইশরাক অঙ্গ পাচার চক্রের হাত থেকে ফিরল লোহাগাড়ার রায়হান ডিএমপির ৩ সহকারী পুলিশ কমিশনারকে নতুন পদে বদলি

ইরানের বিরুদ্ধে ক্রুজ মিসাইলের পুরো মজুদই ব্যবহার হবে: যুক্তরাষ্ট্র


  • আপলোড সময় : রবিবার ০৫ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৭:২২ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে ‘জেএএসএসএম-ইআর’ ক্রুজ মিসাইলের প্রায় পুরো মজুদ ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এমনকি অন্য অঞ্চলের সম্ভাব্য সংঘাত মোকাবিলার জন্য সংরক্ষিত মিসাইলও সেন্ট্রাল কমান্ডের আওতাধীন যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হচ্ছে। মার্কিন প্যাসিফিক কমান্ড থেকে মজুদ সরিয়ে সেন্ট্রাল কমান্ড ও যুক্তরাজ্যের ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে এই মিসাইল প্রেরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

যুদ্ধের আগে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ২৩০০টি জেএএসএসএম-ইআর মিসাইল মজুত ছিল। গত চার সপ্তাহের অভিযানে ইতিমধ্যেই ১০০০-এর বেশি মিসাইল ব্যবহার করা হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে মার্কিন বাহিনীর জন্য মাত্র ৪২৫টি মিসাইল অবশিষ্ট রয়েছে। সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই মজুদ দিয়ে মাত্র ১৭টি বি-১বি বোমারু বিমানের একটি মিশন পরিচালনা করা সম্ভব। বর্তমান উৎপাদন সক্ষমতায় ঘাটতি পূরণ করতে বছর কয়েক সময় লাগবে।

হোয়াইট হাউস দাবি করেছে, ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বড় অংশ ধ্বংস হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো এ দাবি প্রশ্নের মুখে ফেলে। গত শুক্রবার একটি মার্কিন এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছে। এছাড়া একটি এ-১০ অ্যাটাক জেট এবং দুটি উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার ইরানি গোলার আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যুদ্ধের শুরু থেকে ১২টিরও বেশি এমকিউ-৯ ড্রোন ধ্বংস হয়েছে। ফলে আকাশপথে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যের দাবি নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক ভাষণে ইরানকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে আমরা তাদের প্রস্তর যুগে পাঠিয়ে দেব।’’ এই মন্তব্যের পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুনভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। মার্কিন বাহিনী ইরানের প্রধান তেল টার্মিনাল ‘খারগ দ্বীপ’ দখলের পরিকল্পনা করছে বলে খবর। তবে মিসাইল ফুরিয়ে আসায় এখন যুক্তরাষ্ট্র পুরোনো বি-৫২ বোমারু বিমান ব্যবহার করে সস্তা জেডিএএম বোমা ফেলার কৌশল নিচ্ছে।

ইরানও বসে নেই। আঞ্চলিক তথ্য অনুযায়ী, ইরান ইতিমধ্যেই ১৬০০টি ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং ৪০০০-এর বেশি শাহেদ ড্রোন ছুড়েছে। এসব হামলা ঠেকাতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারসেপ্টর বা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সরঞ্জামও প্রায় শেষ হয়ে আসছে। বিশ্বখ্যাত লকহিড মার্টিন ও আরটিএক্স কর্পোরেশন উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করছে, তবে যুদ্ধের তীব্রতার তুলনায় তা সীমিত।

সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই মজুদ ব্যবহার ও ইরানের প্রতিক্রিয়ার মধ্য দিয়ে দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের জন্য আমেরিকার সামরিক সক্ষমতা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। এই যুদ্ধ শুধুমাত্র সরাসরি সংঘাত নয়, বরং আঞ্চলিক ও বিশ্বব্যাপী শক্তির ভারসাম্যকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করছে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর