অনলাইন রিপোর্টার
রাজধানীর তেজগাঁওয়ে নাসা গ্রুপের পোশাক শ্রমিকরা বেতনের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন। সকাল ১০টার পর মহাখালী-নাবিস্কোর মাঝামাঝি তেজগাঁও লিংক রোডের মুখে আনুমানিক ৭০০ থেকে ৮০০ শ্রমিক আন্দোলন শুরু করেন। এতে তেজগাঁও থেকে মহাখালী ও উত্তরা রুটে যানবাহনের চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বেলা ১১টার দিকে শ্রমিকরা রাস্তা ছেড়ে দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
ঢাকা মহানগরীর গুলশান জোনের ট্রাফিক পুলিশ জানায়, অবরোধের কারণে বেলা ঘন্টাখানিক যানবাহন বন্ধ থাকায় নগরীর এই অংশে ভোগান্তি তৈরি হয়েছিল। পুলিশ ভোগান্তি এড়াতে ডাইভারশন ব্যবহার করার জন্য অনুরোধ করেছে। তারা জানিয়েছেন, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করে উত্তরা-মহাখালী রুটে চলাচল করা সম্ভব। এছাড়া মহাখালী ফ্লাইওভার ব্যবহার করে উত্তরা, গুলশান ও বনানী থেকে তেজগাঁওয়ের দিকে যাওয়া যায়। কাকলী বামে মোড়-কামাল আতাতুর্ক সড়ক-গুলশান-২ হয়ে নতুন বাজার বা গুলশান-১ হয়ে রামপুরা ও হাতিরঝিলগামী গন্তব্যেও যাওয়া সম্ভব। বিপরীত দিক থেকেও অনুরূপভাবে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
শ্রমিকরা দাবি করেছেন, বেতন সময়মতো বৃদ্ধি না হওয়ায় ও অতিরিক্ত কাজের জন্য যথাযথ পারিশ্রমিক না পাওয়ায় তারা এই আন্দোলনে নেমেছেন। পোশাক শিল্পে শ্রমিকদের অধিকার সংরক্ষণ ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য তাদের এই প্রতিবাদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
অবস্থানটি নগরের ব্যস্ততম শিল্প এলাকা হওয়ায় সামান্য সময়ের জন্য সড়ক অবরোধ হলেও ব্যবসা ও যাতায়াতের ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে। ট্রাফিক পুলিশের কর্মকর্তারা স্থানীয়দের সচেতন করার পাশাপাশি ডাইভারশন রুট ব্যবহার করার জন্য পুনরায় আহ্বান জানিয়েছেন।
নাসা গ্রুপের পোশাককর্মীরা আশা করছেন, তাদের এই আন্দোলন সরকারের নজরে আসবে এবং বেতন ও অন্যান্য শ্রমিক সুবিধা দ্রুত সমাধান করা হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শ্রমিকদের এই ধরনের আন্দোলন ঢাকার শিল্পাঞ্চলের জন্য নিয়মিত সমস্যা তৈরি করতে পারে, তাই শিল্প মালিক ও সরকারের মধ্যে সমন্বয় জরুরি।
ঢাকা শহরের এই আন্দোলন পোশাক শিল্পের বৃহত্তর সমস্যাগুলোরও ইঙ্গিত দিচ্ছে। সঠিক সমাধান না হলে শ্রমিকদের অধিকার ও শহরের যাতায়াত আরও ব্যাহত হতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং নগরীর যানবাহন চলাচল দুটোই প্রাধান্য পাওয়ার প্রয়োজন।
আকাশজমিন / আরআর