অনলাইন রিপোর্টার
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় সরকারি ও বেসরকারি অফিসের সময়সূচিতে পরিবর্তন এনেছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আজ রোববার থেকে দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি অফিস চলবে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। আগে স্বাভাবিক সময়ে অফিস চলত সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।
গতকাল শনিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, রোববার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত নতুন এই সময়সূচি কার্যকর থাকবে। শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি অপরিবর্তিত থাকবে।
তবে জরুরি পরিষেবাগুলো এই নতুন সময়সূচির আওতার বাইরে থাকবে। আদালতের কার্যক্রমের সময় নির্ধারণের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে। অন্যদিকে বেসরকারি খাতের শিল্পপ্রতিষ্ঠান, কলকারখানা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মঘণ্টা নির্ধারণে শ্রম আইন অনুযায়ী শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় নির্দেশনা দেবে।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জরুরি সেবা ছাড়া সব বিপণিবিতান, মার্কেট, অফিস ভবন এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে ব্যাংকের সময়সূচিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পরিবর্তিত অফিস সময়সূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রোববার থেকে দেশের তফসিলি ব্যাংকগুলোর অফিস চলবে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। আর গ্রাহকদের জন্য লেনদেন চলবে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত। ব্যাংক খাতে শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি আগের মতোই বহাল থাকবে।
তবে সমুদ্র, স্থল ও বিমানবন্দর এলাকায় থাকা ব্যাংকের শাখা, উপশাখা এবং বুথগুলো আগের মতোই ২৪ ঘণ্টা চালু থাকবে।
এদিকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে দোকান ও শপিং মল ব্যবসায়ী মালিক সমিতির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। বৈঠকে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা রাত ৮টা পর্যন্ত দোকান ও শপিং মল খোলা রাখার দাবি জানান। তবে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আপাতত সন্ধ্যা ৬টার মধ্যেই দোকান ও শপিং মল বন্ধ রাখতে হবে।
এর আগে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে ২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর থেকে সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের অফিস সময় সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত করা হয়েছিল। পরে দীর্ঘদিন পর ২০২৪ সালের জুন মাসে আবার আগের নিয়মে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অফিস চালু হয়। তবে নতুন করে বৈশ্বিক জ্বালানিসংকটের প্রভাব পড়ায় আবারও অফিস সময় এক ঘণ্টা কমানো হলো।
অন্যদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক পরিকল্পনায় সপ্তাহে ছয় দিন ক্লাস চালুর প্রস্তাব রয়েছে। এর মধ্যে তিন দিন অনলাইনে এবং তিন দিন সশরীরে ক্লাস নেওয়ার একটি পরিকল্পনা বিবেচনায় রয়েছে। অর্থাৎ এক দিন অনলাইন ক্লাস হলে পরদিন সশরীরে ক্লাস নেওয়ার ব্যবস্থা করা হতে পারে। অনলাইন ক্লাস হলেও শিক্ষকদের সশরীরে উপস্থিত থেকে পাঠদান করার কথা বলা হয়েছে। ব্যবহারিক ক্লাস সশরীরেই নেওয়া হবে।
তবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে অনলাইন ক্লাস বাস্তবায়ন কঠিন হতে পারে বলে মনে করছেন অনেক শিক্ষক। তাঁদের মতে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের পরিবারের শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় সবাইকে অনলাইনে যুক্ত করা বাস্তবে কঠিন।
উল্লেখ্য, পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতরসহ বিভিন্ন ছুটির পর গত ২৯ মার্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলেছে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক জ্বালানিসংকট তৈরি হওয়ায় বাংলাদেশেও জ্বালানি সাশ্রয়ের নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
আকাশজমিন / আরআর