অনলাইন রিপোর্টার
সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দমকা থেকে ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। আকস্মিক এই আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতির কারণে নদীপথে চলাচলকারী নৌযানগুলোর জন্য সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সংস্থাটি বলছে, পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে অস্থায়ীভাবে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে, যা নদীপথে চলাচলকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
রোববার (৫ এপ্রিল) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে দেওয়া এক পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়। পূর্বাভাসে আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হকের সই রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সকাল ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত স্বল্পমেয়াদি আবহাওয়া পরিস্থিতিতে সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঝোড়ো হাওয়ার কারণে নদীপথে ছোট ও মাঝারি আকারের নৌযান চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। তাই নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে যাত্রীবাহী নৌযান ও মাছ ধরার ট্রলারগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে চলতি এপ্রিল মাসের আবহাওয়া পরিস্থিতি নিয়েও পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটি জানিয়েছে, এপ্রিল মাসে দেশে মোটামুটি স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হতে পারে। একই সঙ্গে বঙ্গোপসাগরে ১ থেকে ২টি লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে একটি নিম্নচাপ কিংবা ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
দীর্ঘমেয়াদি আবহাওয়া পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, এ মাসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্ষিপ্তভাবে কালবৈশাখী ঝড় হতে পারে। এপ্রিলজুড়ে প্রায় ৫ থেকে ৭ দিন হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বজ্রঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি ১ থেকে ৩ দিন তীব্র কালবৈশাখী ঝড়ও বয়ে যেতে পারে। এসব ঝড়ের সঙ্গে শিলাবৃষ্টি, বজ্রপাত এবং দমকা হাওয়া থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।
তাপমাত্রা পরিস্থিতি সম্পর্কে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এপ্রিল মাসে দেশের দিন ও রাতের তাপমাত্রা সাধারণত স্বাভাবিক থাকতে পারে। তবে মাঝেমধ্যে তাপপ্রবাহের প্রভাব দেখা দিতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের মতে, এ মাসে ২ থেকে ৪টি মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ এবং ১ থেকে ২টি তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। ফলে কিছু সময়ের জন্য গরমের তীব্রতা বাড়তে পারে।
অন্যদিকে গত মার্চ মাসের আবহাওয়া পরিস্থিতির পর্যালোচনায় দেখা গেছে, দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৩১ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বিশেষ করে সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে স্বাভাবিকের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে। তবে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগে বৃষ্টিপাত ছিল স্বাভাবিকের তুলনায় কম।
মার্চ মাসজুড়ে কয়েক দফায় পশ্চিমা লঘুচাপ ও পূবালী বায়ুপ্রবাহের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি, বজ্রপাত এবং দমকা হাওয়া দেখা গেছে। এই সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে সিলেটে, যেখানে ৮৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় যশোরে, যা ছিল ৩৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
নদ-নদীর পরিস্থিতি নিয়েও পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটি জানিয়েছে, এপ্রিল মাসে দেশের প্রধান নদীগুলোর পানির প্রবাহ স্বাভাবিক থাকতে পারে। ফলে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা আপাতত নেই। পাশাপাশি কৃষি আবহাওয়াও মোটামুটি অনুকূল থাকবে বলে মনে করছে আবহাওয়া বিভাগ। এতে চলমান বোরো ধানসহ অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আকাশজমিন / আরআর