ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

হোমিওপ্যাথিক কাউন্সিল পুনর্গঠন: চেয়ারম্যান নিয়োগে বিতর্ক


  • আপলোড সময় : সোমবার ০৬ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৩:৫৩ পিএম

বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষা কাউন্সিল পুনর্গঠন প্রক্রিয়াকে ঘিরে সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনা, উদ্বেগ ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে কাউন্সিলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব অতিরিক্ত সচিব (চিকিৎসা শিক্ষা) অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে পালন করছেন। সরকার নতুন করে কাউন্সিল পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়ায় খাতসংশ্লিষ্ট চিকিৎসক, সংগঠক ও শিক্ষকদের মধ্যে আশার সঞ্চার হলেও চেয়ারম্যান নিয়োগকে কেন্দ্র করে নানা প্রশ্ন ও মতভেদ দেখা দিয়েছে।

সূত্র জানায়, পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে আগামী ১১ এপ্রিল বিভাগীয় পর্যায়ে সদস্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ইতোমধ্যে কাউন্সিলের নির্বাহী পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ নিয়ে বিভিন্ন তৎপরতা শুরু হয়েছে। নরসিংদী হোমিও কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ডা. শফিকুল ইসলামের নাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় এসেছে বলে জানা গেছে।

তবে এ সম্ভাব্য নিয়োগকে ঘিরে হোমিওপ্যাথি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, জাতীয় পর্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার চেয়ারম্যান হিসেবে এমন ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া উচিত, যিনি পেশাগতভাবে দক্ষ, প্রশাসনিকভাবে অভিজ্ঞ এবং সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য। তাদের মতে, এই পদটি শুধু সম্মানজনকই নয়, বরং দেশের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষা ও সেবার মান নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

অন্যদিকে, কিছু চিকিৎসক ও সংগঠক অভিযোগ করছেন, রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রভাব খাটিয়ে কোনো বিতর্কিত ব্যক্তিকে এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হলে তা পুরো খাতের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এতে কাউন্সিলের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি হোমিওপ্যাথিক শিক্ষার মান ও প্রশাসনিক কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

এ বিষয়ে শহীদ জিয়া হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও জাতীয়তাবাদী হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক দল (কুমিল্লা বিভাগীয়) কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, জাসাস ঢাকা মহানগর উত্তর এর সাবেক স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডাঃ মোহাম্মদ লিটন মিয়া বলেন, “চেয়ারম্যান নিয়োগের ক্ষেত্রে যদি যোগ্যতা ও সক্ষমতার বিষয়টি উপেক্ষিত হয়, তাহলে তা খাতটির জন্য নেতিবাচক বার্তা বহন করবে।” তিনি আরও বলেন, সরকার যদি দেশের স্বার্থে কাজ করতে চায়, তবে অবশ্যই একজন দক্ষ, অভিজ্ঞ ও সর্বদিক থেকে যোগ্য ব্যক্তিকেই এ পদে নিয়োগ দিতে হবে।

এদিকে সাবেক সরকার মনোনীত বোর্ড সদস্য, সাবেক সহ সভাপতি জাসাস জাতীয় নির্বাহী কমিটি, সভাপতি – বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক দল কেন্দ্রীয় কমিটি, তারেক রহমান খালেদা জিয়া মুক্তি পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ডাঃ আরিফুর রহমান মোল্লা বলেন, হোমিওপ্যাথিক সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন চিকিৎসক ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের উদ্বেগের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তারা মন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন, যেন চেয়ারম্যান নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয় এবং কোনো বিতর্কিত বা অযোগ্য ব্যক্তিকে দায়িত্ব না দেওয়া হয়।

শহীদ জিয়া হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও লোহাগড়া উপজেলার বিএনপির আহবায়ক কমিটির সিনিয়র সদস্য ডাঃ সৈয়দ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, হোমিওপ্যাথি একটি প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা পদ্ধতি, যা দেশের একটি বড় জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবায় ভূমিকা রাখছে। তাই এই খাতের উন্নয়ন ও সুশাসনের জন্য দক্ষ নেতৃত্ব অপরিহার্য।

সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, চলমান পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় সব ধরনের বিতর্ক, চাপ ও প্রভাব এড়িয়ে যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতার ভিত্তিতে চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হবে। এতে দেশের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষা ও সেবার মানোন্নয়ন নিশ্চিত হবে এবং খাতটি নতুন গতিতে এগিয়ে যাবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর