ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরলো বঙ্গবন্ধুর একক ছবি, যুক্ত হলো জিন্নাহ ও জুলাই অভ্যুত্থান মমেকের ৩য় তলায় শিশু ওয়ার্ডে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস শিল্পে গ্যাস সরবরাহ মঙ্গলবার থেকেই স্বাভাবিক হওয়ার আশা প্রধানমন্ত্রীর ব্যাংকে কোটি টাকার হিসাব ছাড়াল ১ লাখ ৪১ হাজার কাশফুল শুধু সৌন্দর্য নয়, অনেকের জীবিকাও বটে তাড়াশে গোয়ালঘরের তালা ভেঙে ৮টি গরু চুরি, নিঃস্ব কৃষক পরিবার ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ১৭৩৩ জন ঢাকার দুই সিটিতে জামায়াতের অনানুষ্ঠানিক মেয়র প্রার্থী ঘোষণা চারবার গুলিবিদ্ধ ও তিনবার কারাবরণ: ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আলোচনায় ইশরাক অঙ্গ পাচার চক্রের হাত থেকে ফিরল লোহাগাড়ার রায়হান

দেশে এসেছে সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত মামুনের মরদেহ


  • আপলোড সময় : সোমবার ০৬ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৪:৩৬ পিএম

অনলাইন রিপোর্টার

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘর্ষে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দগ্ধ হয়ে সৌদি আরবে নিহত বাংলাদেশি কর্মী আব্দুল্লাহ আল মামুন-এর মরদেহ দেশে এসেছে।

সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে সৌদি এয়ারলাইন্সের এসভি৮০৬ ফ্লাইটে মামুনের মরদেহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। বিমানবন্দর প্রাঙ্গণে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক উপস্থিত থেকে মরদেহ গ্রহণ করেন।

নিহত মামুনের পরিবারও বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন। পরিবার ও কর্তৃপক্ষের মধ্যে মর্যাদাশীল পরিবেশে মরদেহ হস্তান্তর সম্পন্ন হয়। মামুনের বাড়ি ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার রসুলপুর গ্রামে।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ মার্চ ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আরবের আল-খারজ এলাকায় আঘাত হানলে মামুন দগ্ধ হন। এই হামলায় তার শরীরের প্রায় ৯০ শতাংশ পুড়ে যায়। রিয়াদে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিদেশে কর্মরত শ্রমিকদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের অগ্রাধিকার। প্রয়োজনে নিহত কর্মীর পরিবারকে সরকারিভাবে সহায়তা প্রদান করা হবে। এ সময় মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, “মারা যাওয়া প্রবাসী কর্মীদের প্রতি সরকার গভীর দুঃখ প্রকাশ করছে এবং পরিবারের পাশে রয়েছে।”

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট দূতাবাস প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপদ অভিবাসন ও বিদেশে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নিয়মিত মনিটরিং করে আসছে। একইসঙ্গে বিপদের সময়ে প্রবাসীদের দ্রুত সাহায্য ও দেশে মরদেহ হস্তান্তরের ব্যবস্থা করে।

মর্মান্তিক এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে তাদেরকে মানসিক সহায়তা দিচ্ছে। স্থানীয় মুসলিম ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেও মরদেহ গ্রহণের সময় দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

নিহতের পরিবার জানান, মামুন প্রায় ৫ বছর ধরে সৌদি আরবের বিভিন্ন নির্মাণ ও শিল্প প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। দেশে থাকার ইচ্ছা থাকলেও পরিবারকে জীবিকা নির্বাহের কারণে বিদেশে কাজ করতে হয়েছিল।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং বিদেশি সংঘাত এলাকা থেকে বাঁচার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত কর্মসূচি নেওয়া হয়। এ ধরনের ঘটনায় প্রবাসী শ্রমিকদের পরিবারকে মানসিক ও আর্থিক সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা আছে।

মর্মাহত পরিবার এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে নিহত মামুনের মরদেহকে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে পরিবারে হস্তান্তর করেন। মরদেহ হস্তান্তরের সময় প্রার্থনার মাধ্যমে মৃত ব্যক্তির আত্মার শান্তি কামনা করা হয়।



এ সম্পর্কিত আরো খবর