ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় টাকার লোভে ৬৫ বছর বয়সী খালা জামেলা বেগমকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত দোষীর সর্বোচ্চ শাস্তি দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের সখিনার মোড় এলাকায় আয়োজিত মানববন্ধনে স্থানীয় নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রায় তিন শতাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করেন। মানববন্ধন জুড়ে ছিল প্রতিবাদ, ক্ষোভ এবং দ্রুত বিচার দাবির জোরালো আহ্বান।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, “জামেলা বেগম ছিলেন অত্যন্ত নিরীহ ও সহজ-সরল একজন মানুষ। শুধুমাত্র টাকার লোভে তাকে এভাবে নির্মমভাবে হত্যা করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা দ্রুত বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করে দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
উল্লেখযোগ্যভাবে, বক্তারা আরও বলেন, “এ ধরনের নৃশংস হত্যাকাণ্ড সমাজে ভীতি ও অস্থিরতা সৃষ্টি করে। অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা না হলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।”
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড বহন করেন, যেখানে লেখা ছিল ‘খুনির ফাঁসি চাই’, ‘জামেলা বেগম হত্যার বিচার চাই’ এবং অন্যান্য প্রতিবাদী স্লোগান।
গত ২৮ মার্চ নগরকান্দা উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের রাধানগর পূর্বপাড়া গ্রামে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। জামেলা বেগমকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় এবং তার মরদেহ বাড়ির পাশের একটি সেপটিক ট্যাংক থেকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনায় নিহতের ভাগিনা আলমগীর হোসেনকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এই হত্যাকাণ্ডটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে দোষীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।
মানববন্ধনের আয়োজনকরা জানিয়েছেন, “এ ধরনের নৃশংসতা সমাজে ভীতি ছড়িয়ে দেয়। তাই দোষীর যথাযথ বিচার জরুরি।”
স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ স্পষ্ট। তারা মনে করছেন, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া এবং কঠোর শাস্তি অপরিহার্য।
পুলিশ জানায়, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং গ্রেপ্তারকৃত আলমগীর হোসেনকে আদালতে সোপর্দ করার প্রস্তুতি চলছে। আদালত যথাযথ প্রক্রিয়া শেষে দোষীকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, “এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার না হলে, ভবিষ্যতে এমন অপরাধের পুনরাবৃত্তি হতে পারে। তাই সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে।”
মানববন্ধনে উপস্থিত এক নারী বলেন, “আমরা চাই দোষী শাস্তি পুকুর মতো হয় যাতে কেউ ভবিষ্যতে এমন নৃশংসতা করতে সাহস না পায়।”
অপর এক বক্তা বলেন, “জামেলা বেগমের মতো নিরীহ মানুষ হত্যার শাস্তি না পেলে সমাজে অপরাধী বাড়বে এবং মানুষের নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।”
স্থানীয় গণমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে মানববন্ধন আয়োজন করেছেন। মানববন্ধনের মাধ্যমে তারা দোষীর ফাঁসি এবং দ্রুত বিচারের জোর দাবি জানান।
মানববন্ধনে উপস্থিতরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ডে লিখেছেন, “নিরাপত্তা চাই”, “শাস্তি নিশ্চিত হোক”, এবং “জামেলা বেগম হত্যার বিচার চাই”।
পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল প্রক্রিয়াধীন। আদালত শাস্তির দৃষ্টান্তমূলক রায় দিলে ভবিষ্যতে এমন হত্যাকাণ্ড প্রতিরোধে সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
স্থানীয়রা বলেছেন, “আমরা চাই সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হোক এবং দোষীর শাস্তি নিশ্চিত হোক। কেউ এ ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি করতে সাহস পাবে না।”
এদিকে মানববন্ধনে উপস্থিত স্কুল শিক্ষকরা বলেন, “এই হত্যাকাণ্ড শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। আমরা চাই সমাজে নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হোক।”
স্থানীয়রা মানববন্ধনের মাধ্যমে দাবি জানান, “এ ধরনের নৃশংস হত্যাকাণ্ড সমাজে ভীতি ও অস্থিরতা তৈরি করে। দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া এবং সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।”
মানববন্ধনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় স্থানীয়রা বলেন, “আমরা চাই দোষী শাস্তি পাই এবং এই হত্যাকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি রোধ হোক।”
উল্লেখ্য, জামেলা বেগমকে হত্যা করা ঘটনায় পুরো এলাকা শোকাহত। স্থানীয়রা বলছেন, “এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।”
আকাশজমিন / আরআর