অনলাইন রিপোর্টার
আগামী ১২ মে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের বিস্তারিত তপশিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বুধবার সকালেই রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে এক ব্রিফিংয়ে এই তপশিল ঘোষণা করেন ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ।
তিনি জানান, সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ২১ এপ্রিল বিকেল চারটা। মনোনয়নপত্র বাছাই করা হবে ২২ ও ২৩ এপ্রিল। আপিল আবেদনের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ২৬ এপ্রিল এবং আপিল নিষ্পত্তি হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৯ এপ্রিল, এবং প্রতীক বরাদ্দ করা হবে ৩০ এপ্রিল। নির্বাচন আগামী ১২ মে সকাল ৮টা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত হবে।
ইসি সচিব জানিয়েছেন, সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ইসির যুগ্ম সচিব মঈন উদ্দিন খান এবং সহকারী রিটার্নিং অফিসার হিসেবে থাকবেন উপসচিব মনির হোসেন।
তিনি আরও জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সাধারণ আসনের ফলাফলের ভিত্তিতে সংরক্ষিত নারী আসনের বণ্টনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট পাচ্ছে ৩৬টি আসন, জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট ১৩টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পাচ্ছেন ১টি আসন।
এর আগে, সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন উপলক্ষে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র সদস্যদের কাছে জোটগত অংশগ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানতে চিঠি দেয় ইসি। এতে বিএনপি ও জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট আগের মতোই একসঙ্গে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।
সংসদে নির্বাচিত সাতজন স্বতন্ত্র সদস্যের মধ্যে ছয়জন পৃথক একটি জোট গঠন করেছেন। তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা এবং বরগুনা-১ আসনের ইলামী আন্দোলনের সংসদ সদস্য অলি উল্লাহ কোনো জোটে যোগ দেননি। আইন অনুযায়ী, তারা ব্যক্তিগতভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।
সংরক্ষিত মহিলা আসন আইন-২০০৪ অনুযায়ী, সংসদের সাধারণ আসনের আনুপাতিক হারে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন করা হয়ে থাকে। এটি নিশ্চিত করে যে, সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনেও প্রতিটি রাজনৈতিক দলের সাংবিধানিক প্রাপ্যতা বজায় থাকে।
ইসি তপশিল ঘোষণা করে জানিয়েছে যে, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে এবং সকল নির্বাচনী কার্যক্রম আইন ও বিধি অনুযায়ী সম্পন্ন হবে। তাপশিল অনুযায়ী নির্বাচনী প্রস্তুতি শেষ হওয়ার পর প্রতীক বরাদ্দ ও ভোটগ্রহণ কার্যক্রম নির্ধারিত হবে।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে যে, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সব কার্যক্রম স্বচ্ছ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে এবং নির্বাচিত প্রার্থীরা সংরক্ষিত নারী আসনের মাধ্যমে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করবেন।
আকাশজমিন / আরআর