জাতীয় সংসদে হামের টিকা সংকট ও মৃত্যুর পরিসংখ্যান নিয়ে আলোচনায় স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা-এর বক্তব্যের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘ডোন্ট গেট নার্ভাস, আই এম ফিট’—এবং প্যানিক না ছড়িয়ে তথ্য যাচাই করে কথা বলার আহ্বান জানান।
বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে হামের বিস্তার, টিকার সংকট এবং মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, তার উদ্দেশ্য কোনোভাবেই আতঙ্ক সৃষ্টি করা নয়; বরং জনস্বাস্থ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা। সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি তো ৩০০ জন সংসদ সদস্যের সামনে কথা বলছি, ৩০০ জন হামের রোগীর সামনে না।’ জনস্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলাও যদি ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে সংসদের কার্যক্রম কীভাবে চলবে—এ প্রশ্নও তোলেন তিনি।
রুমিন ফারহানা আরও বলেন, মৃত্যুগুলোকে শুধু পরিসংখ্যান হিসেবে দেখা উচিত নয়। প্রতিটি সংখ্যার পেছনে রয়েছে একটি শিশুর জীবন, একটি মায়ের কান্না এবং একটি পরিবারের বেদনাময় গল্প। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, সন্তানের লাশ কাঁধে নেওয়ার মতো ভার পৃথিবীতে আর কিছু নেই—এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে বিষয়টি দেখার আহ্বান জানান।
তিনি দাবি করেন, গত ২০ দিনে ৯৮ জন শিশুর সন্দেহজনকভাবে হামে মৃত্যু হয়েছে এবং নিশ্চিত মৃত্যু ১৬ জন। এছাড়া বিভিন্ন হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী গত দুই সপ্তাহে মৃত্যুর সংখ্যা ৬১ বলেও উল্লেখ করেন। শুধু হামের পরিস্থিতিই নয়, দেশে ১০ ধরনের টিকার সংকট দেখা দিয়েছে বলেও জানান তিনি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইপিআই কর্মসূচির কেন্দ্রীয় গুদামে বিসিজি, পেন্টা, ওপিভি, পিসিভি, এমআর ও টিডি—এই ছয় ধরনের টিকার মজুদ শূন্যে নেমে এসেছে। বর্তমানে আইপিভি ও টিসিভি টিকার মজুদ জুন পর্যন্ত চলতে পারে—এরপর কী হবে, সে বিষয়ে সরকারের ব্যাখ্যা চান তিনি।
জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, তিনি বিষয়টি কোনোভাবেই এড়িয়ে যাননি এবং সংসদ সদস্যের বক্তব্যের প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি তার প্রতিটি বক্তব্যের জবাব দিয়েছি, তাকে অসম্মান করার কিছু করিনি। এখানে সেন্সিটিভ হওয়ার কোনো জায়গা নেই।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমি কিন্তু একজন এজেড মানুষ। লুকিং ভেরি ইয়াং, বাট এজেড। ডোন্ট গেট নার্ভাস, আই এম ফিট।’ তিনি জানান, ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও তিনি মহাখালী সংক্রামক রোগ হাসপাতালে হামের ওয়ার্ড পরিদর্শন করেছেন এবং একটি শিশুর মৃত্যুর পর আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
মন্ত্রী জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফের যৌথ হিসেবে এখন পর্যন্ত ৪১ জনের মৃত্যু নিশ্চিতভাবে হামজনিত বলে শনাক্ত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি তিনি ভালোভাবে বোঝেন, কারণ তার নিজের সন্তানও একসময় হামে আক্রান্ত হয়েছিল।
পরিসংখ্যান ব্যবহারে সতর্কতার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘একটি পত্রিকার তথ্যের ওপর ভিত্তি করে না বলে দয়া করে ক্রসচেক করবেন।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, মানুষকে ভয় দেখানো নয়, বরং সাহস জোগানোই সবার দায়িত্ব।
টিকার মজুদ প্রসঙ্গে তিনি জানান, সরকার শূন্য অবস্থা থেকে সরবরাহ পুনর্গঠনের কাজ করছে। ইতোমধ্যে ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ অনুমোদন হয়েছে এবং ইউনিসেফের মাধ্যমে সরাসরি টিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে, যাতে বিলম্ব ও দুর্নীতি এড়ানো যায়।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ ও বিশ্বব্যাংক সরকারকে সহযোগিতা করছে এবং দ্রুত টিকার মজুদ শক্তিশালী করা হবে। মানুষকে আতঙ্কিত না করে সচেতন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
আকাশজমিন
/ আরআর