জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ কেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর পাশে বসেছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বিরোধীদল জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।
বুধবার (৮ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের একাদশতম কার্যদিবসে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি বিষয়টি উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সংসদের কার্যক্রম বেশ প্রাণবন্ত হয়েছে এবং বিভিন্ন বিষয়ে গঠনমূলক আলোচনা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও সংবিধান ও কার্যপ্রণালি অনুযায়ী বক্তব্য রাখছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তবে গত দুই দিন ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রীর পাশের আসনে বসতে দেখা যাচ্ছে উল্লেখ করে মুজিবুর রহমান বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্ধারিত আসন থেকে তিনি সর্বোচ্চ আসনের পাশে চলে গেছেন।’ তিনি প্রশ্ন তোলেন, প্রধানমন্ত্রী কি তাকে বিশেষ কোনো সুযোগ বা ছাড় দিয়েছেন কিনা।
একই সঙ্গে তিনি বলেন, যদি কোনো বিশেষ ছাড় না দেওয়া হয়ে থাকে, তবে সংসদের রুলস অব প্রসিডিওর যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এ বিষয়ে স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম জানান, সংসদে আসন পরিবর্তন একটি স্বাভাবিক বিষয় এবং এটি পয়েন্ট অব অর্ডারের অন্তর্ভুক্ত নয়। তিনি বলেন, সংসদ সদস্যদের আসন বিন্যাস মাঝে মাঝে পরিবর্তন হতে পারে এবং এতে কোনো নিয়ম লঙ্ঘন হয়েছে বলে গণ্য করা হয় না। স্পিকারের এই ব্যাখ্যার পর বিষয়টি নিয়ে আর কোনো বিতর্ক হয়নি। তবে সংসদ কক্ষে উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে কিছুটা কৌতূহল দেখা যায়।
পরে, সংসদে সন্ত্রাসবিরোধী সংশোধন বিল-২০২৬ উত্থাপনের সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বক্তব্য দিতে উঠে বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার, আপনাকে ধন্যবাদ। আমি আমার জায়গায় ফেরত এসেছি।’ তার এই মন্তব্যে সংসদে কিছুটা হাস্যরসের পরিবেশ তৈরি হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংসদের আসন বিন্যাস সাধারণত প্রটোকল অনুযায়ী নির্ধারিত হলেও বাস্তব প্রয়োজনে তা সাময়িকভাবে পরিবর্তন হতে পারে। অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার সময় মন্ত্রীদের অবস্থান পরিবর্তন করা হয়, যাতে তারা সরাসরি আলোচনায় অংশ নিতে পারেন।
এ ধরনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে বিভিন্ন ব্যাখ্যা ও প্রতিক্রিয়া দেখা গেলেও স্পিকারের বক্তব্য অনুযায়ী এটি কোনো নিয়মভঙ্গ নয়। সংসদের কার্যক্রমে এমন ছোটখাটো বিষয়ও কখনো কখনো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে, যা গণতান্ত্রিক পরিবেশের অংশ হিসেবেই বিবেচিত হয়।