শতকোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এবং তার পিএস মাসুমের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের আবেদন জমা পড়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক)। বুধবার (৮ এপ্রিল) এ আবেদন করেন ব্যারিস্টার সরোয়ার হোসেন।
আবেদনকারী নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে আইন মন্ত্রণালয়ে সাব-রেজিস্ট্রার বদলি সংক্রান্ত কার্যক্রমে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে গত আট মাসে ২৮৬ জন সাব-রেজিস্ট্রারকে বদলি করার ক্ষেত্রে অবৈধভাবে ঘুষ লেনদেন হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, একটি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সাব-রেজিস্ট্রার বদলির ক্ষেত্রে নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করা হয়নি এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়নি।
আইনজীবী সরোয়ার হোসেন বলেন, বদলি সংক্রান্ত নীতিমালা থাকা সত্ত্বেও তা উপেক্ষা করে একাধিক ক্ষেত্রে অনিয়ম করা হয়েছে। এতে সরকারি প্রশাসনের স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে এবং দুর্নীতির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
আবেদনে আরও বলা হয়, সাব-রেজিস্ট্রার পদে বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম-কানুন যথাযথভাবে মানা হয়নি। এতে করে একই ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর মাধ্যমে প্রভাব খাটিয়ে বদলি কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে।
এই প্রেক্ষাপটে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুদকের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুসন্ধান শুরুর আহ্বান জানানো হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সাধারণত এ ধরনের অভিযোগ পাওয়ার পর প্রাথমিক যাচাই-বাছাই করে থাকে। অভিযোগের ভিত্তি পাওয়া গেলে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করা হয়। এ ক্ষেত্রে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা এখন দুদকের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা জরুরি। এতে একদিকে যেমন দুর্নীতি প্রতিরোধ করা সম্ভব, অন্যদিকে জনআস্থা বৃদ্ধি পায়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে এই অভিযোগ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। তদন্তের অগ্রগতি এবং এর ফলাফলই নির্ধারণ করবে অভিযোগের বাস্তবতা কতটা।
আকাশজমিন / আরআর