ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে হাতাহাতি ঘটেছে, যা হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। বুধবার বিকেলে এই ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবাদে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা সাময়িকভাবে চিকিৎসাসেবা বন্ধ রেখেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অমর একুশে হলের শিক্ষার্থী সানিম (২৩) বেলা সাড়ে তিনটার দিকে জ্বর ও পেটব্যথা নিয়ে জরুরি বিভাগে যান। চিকিৎসক তাঁকে পরীক্ষা করে একটি ওষুধ লিখে দেন এবং সেটি বাইরে থেকে কিনতে বলেন। সানিম আশপাশের কয়েকটি ফার্মেসি ঘুরেও ওষুধটি না পেয়ে ফের চিকিৎসকের কাছে যান এবং বিকল্প ওষুধের অনুরোধ করেন।
সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, চিকিৎসক সানিমের সঙ্গে রাগান্বিত আচরণ করেন এবং অভিযোগ অনুযায়ী স্কেল দিয়ে মারার চেষ্টা করেন। এর পর সানিম অমর একুশে হলে গিয়ে আরও সাত-আটজন শিক্ষার্থীকে নিয়ে হাসপাতালে ফিরে আসেন। তারা চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করতে গিয়ে বাগ্বিতণ্ডায় জড়ান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এক পর্যায়ে ওই চিকিৎসককে টানাহেঁচড়া করা হয় এবং তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। জরুরি বিভাগের সামনে আরও শিক্ষার্থী জড়ো হন। পরে চিকিৎসক বাইরে বের হলে তাঁকে মারার চেষ্টা করা হয় এবং অন্য চিকিৎসকদের সঙ্গেও ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতি ঘটে।
এই ঘটনায় জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা চেম্বার ছেড়ে ডাক্তারদের ওয়েটিং রুমে অবস্থান নেন। হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করা হয়। ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, অতিরিক্ত পুলিশ ও আনসার মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
ঘটনার পর জরুরি বিভাগে চিকিৎসাসেবা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকে। শিক্ষার্থীরা বাইরে বিক্ষোভ ও চিৎকার করতে থাকেন। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। এই ঘটনা হাসপাতাল ও বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
আকাশজমিন / আরআর