অনলাইন রিপোর্টার
ঢাকাসহ দেশের পাঁচ বিভাগে কালবৈশাখী ঝড়ের আশঙ্কা রয়েছে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে প্রকাশিত আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এই সতর্কতা জারি করা হয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আজ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ১২ ঘণ্টার মধ্যে দেশের কয়েকটি অঞ্চলে ঝড়ো হাওয়াসহ কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের ওপর দিয়ে এই ঝড় আঘাত হানতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক স্বাক্ষরিত পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত শক্তিশালী বায়ুর প্রভাবে এসব অঞ্চলে ঝড়ের সৃষ্টি হতে পারে। এ সময় ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। কোথাও কোথাও এর চেয়েও বেশি গতির দমকা হাওয়া বইতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, কালবৈশাখী ঝড়ের সময় বজ্রপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সঙ্গে কিছু এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে শিলাবৃষ্টিও হতে পারে। ফলে ঝড়ের সময় জনসাধারণকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশে সাধারণত গ্রীষ্মের শুরুতে কালবৈশাখী ঝড় দেখা যায়। বিশেষ করে মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত এই ধরনের ঝড় বেশি হয়ে থাকে। এই সময় তাপমাত্রা বেশি থাকায় বায়ুমণ্ডলে অস্থিতিশীলতা তৈরি হয় এবং এর ফলেই হঠাৎ করে কালবৈশাখী ঝড়ের সৃষ্টি হয়।
কালবৈশাখী ঝড় সাধারণত স্বল্প সময় স্থায়ী হলেও অনেক সময় তা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ঝড়ের সময় তীব্র দমকা হাওয়া, বজ্রপাত এবং কখনো কখনো শিলাবৃষ্টি দেখা যায়। এতে গাছপালা উপড়ে পড়া, ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার মতো ঘটনা ঘটে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, যেসব এলাকায় ঝড়ের আশঙ্কা রয়েছে সেখানে নৌযানসহ সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে খোলা জায়গা, নদী বা জলাশয়ের আশপাশে অবস্থানকারীদের ঝড়ের সময় সাবধান থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বজ্রপাতের ঝুঁকি থাকায় ঝড়ের সময় গাছের নিচে আশ্রয় না নেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ সংযোগ ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের কাছ থেকেও দূরে থাকার কথা বলা হয়েছে।
এদিকে ঝড়ের আশঙ্কায় কৃষক ও সাধারণ মানুষকে আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে কৃষিজমির ফসল, ঘরের ছাউনি ও গবাদিপশুর নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে পরবর্তী সময়ে নতুন সতর্কবার্তা বা পূর্বাভাস দেওয়া হতে পারে।
আবহাওয়া সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, গ্রীষ্মের এই সময়টিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কালবৈশাখী ঝড়ের প্রবণতা বাড়তে থাকে। তাই আবহাওয়ার সর্বশেষ পূর্বাভাস নিয়মিত অনুসরণ করা এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করা গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতা ও প্রস্তুতি থাকলে কালবৈশাখী ঝড়ের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।