অনলাইন রিপোর্টার
রাজধানী ঢাকায় রাতভর বৃষ্টির পর বৃহস্পতিবার সকালে কিছু সময়ের জন্য সূর্যের দেখা মিললেও আবারও আকাশ মেঘলা হয়ে ওঠার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটি বলছে, রাজধানীর আশপাশে এখনো মেঘের একটি খণ্ড অবস্থান করছে। ফলে দিনের বিভিন্ন সময়ে আবারও বৃষ্টি হতে পারে।
বুধবার রাত থেকেই রাজধানীর আকাশে ঘন মেঘ জমতে শুরু করে। আবহাওয়া অধিদপ্তর আগেই সতর্কবার্তা দিয়েছিল যে পরবর্তী ১২ ঘণ্টার মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টিপাত হতে পারে। সেই পূর্বাভাসের পর রাত দশটার পর থেকেই ঢাকায় শুরু হয় বৃষ্টি। রাতভর থেমে থেমে বৃষ্টিপাত হয় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায়।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে কিছু সময়ের জন্য হালকা রোদ দেখা গেলেও খুব দ্রুতই আকাশ আবার মেঘলা হয়ে যায়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাজধানীর আশপাশে থাকা মেঘের একটি সেল যে কোনো সময় সক্রিয় হতে পারে। ফলে দুপুরের পর আবারও আকাশ মেঘলা হওয়ার পাশাপাশি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
হঠাৎ বৃষ্টির কারণে সকালে রাজধানীর অফিসগামী মানুষ কিছুটা ভোগান্তিতে পড়েন। অনেকেই ছাতা বা রেইনকোট নিয়ে বাসা থেকে বের হয়েছেন। বৃষ্টির কারণে বেশ কিছু সড়কে যানবাহনের গতি কমে যায় এবং কোথাও কোথাও যানজটও দেখা দেয়। এতে কর্মস্থলে পৌঁছাতে সময় বেশি লেগেছে অনেকের।
শুধু অফিসগামী মানুষই নয়, বৃষ্টির কারণে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরাও কিছুটা সমস্যায় পড়েছে। অনেক শিক্ষার্থী ভেজা সড়ক ও যানজটের কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছাতে পারেনি বলে জানা গেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ছয়টা পর্যন্ত রাজধানীতে মোট ১২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তবে সকাল ছয়টা থেকে আটটা পর্যন্ত কতটুকু বৃষ্টি হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ হিসাব তখনো পাওয়া যায়নি। আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রগুলো থেকে তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছিল বলে জানা গেছে।
আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বৃহস্পতিবার সকালে জানান, শুধু রাজধানী নয়, দেশের প্রায় সব অঞ্চলেই গত রাত থেকে বৃষ্টিপাত হয়েছে। বিশেষ করে খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে সকাল থেকেই বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। এসব অঞ্চলে দিনের বিভিন্ন সময় বৃষ্টি হতে পারে এবং কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে বলে তিনি জানান।
গত ১২ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন জেলায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে চুয়াডাঙ্গায় ৪৬ মিলিমিটার, যশোরে ২৭ মিলিমিটার, নীলফামারীর ডিমলায় ৩১ মিলিমিটার এবং গোপালগঞ্জে ২৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। আবহাওয়া অফিস বলছে, এই বৃষ্টিপাত মূলত মৌসুমি বৈশাখী আবহাওয়ার প্রভাবে হচ্ছে।
আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক জানিয়েছেন, রাজধানীর কাছাকাছি এলাকায় এখনো একটি মেঘমণ্ডল সক্রিয় রয়েছে। দুপুর ১২টার পর আবারও ঢাকার আকাশে মেঘ জমতে পারে। ফলে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আংশিক মেঘলা আকাশ দেখা যেতে পারে এবং কোথাও কোথাও স্বল্পস্থায়ী বৃষ্টিও হতে পারে।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, এ সময় দেশে কালবৈশাখী ঝড়, বজ্রসহ বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া হওয়া স্বাভাবিক ঘটনা। তাই হঠাৎ আবহাওয়ার পরিবর্তনের জন্য নগরবাসীকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।