ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ ও সচিবালয় অধ্যাদেশ বাতিল


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ০৯ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৬:৫৫ পিএম

জাতীয় সংসদ বৃহস্পতিবার (০৯ এপ্রিল) বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগের বিধান এবং স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠার জন্য জারি করা অধ্যাদেশগুলো বাতিল করেছে। এই অধ্যাদেশগুলো বাতিল করার বিরোধিতা করেছিল বিরোধী দল।

সংসদে ‘সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ (রহিতকরণ) বিল’ এবং ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল’ পাস করা হয়েছে। এর ফলে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি হওয়া তিনটি অধ্যাদেশ বাতিল হচ্ছে এবং বিচার বিভাগ আগের অবস্থায় ফিরছে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগের জন্য কোনো নতুন আইন আর থাকছে না। তবে, ওই অধ্যাদেশের অধীনে নিয়োগপ্রাপ্ত ২৫ জন বিচারকের নিয়োগ বৈধ বলে গণ্য হবে।

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিল হওয়ার পর সচিবালয় বিলুপ্ত হবে। সচিবালয়ে ন্যস্ত বাজেট, প্রকল্প ও কর্মসূচি সরকারের আইন ও বিচার বিভাগের কাছে হস্তান্তরিত হবে। সচিবালয়ের জন্য সৃজিত পদগুলোও বিলুপ্ত হবে। সচিবালয়ে কর্মরত বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের চাকরি পূর্বের আইনের অধীনে পরিচালিত হবে।

বিরোধী দলের আপত্তি নাকচ করে বিলটি পাস হয়েছে। বিরোধী দল বলেছে, সরকারের এই উদ্যোগ বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সরকার বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। অধিকতর যাচাই–বাছাই করে এ–সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন করা হবে।

বিদ্যমান সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতির পরামর্শে বিচারক নিয়োগ দেবেন। সংবিধানে বিচারক হওয়ার অযোগ্যতা উল্লেখ আছে। কেউ যদি বাংলাদেশের নাগরিক না হয় বা অন্তত ১০ বছর আইনজীবী বা বিচার বিভাগীয় পদে না থাকে, তবে তিনি সুপ্রিম কোর্টের বিচারক পদে যোগ্য হবেন না।

অতীতে কোনো সরকার বিচারক নিয়োগের জন্য বিশেষ আইন প্রণয়ন করেনি। বিভিন্ন সময়ে বিচার বিভাগে রাজনীতিকীকরণের অভিযোগ ছিল। এই প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ জারি করে। এতে বলা হয়েছিল, সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগে উপযুক্ত ব্যক্তি বাছাই করবে ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিল’। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে এই স্বতন্ত্র কাউন্সিল রাষ্ট্রপতিকে সুপারিশ পাঠাবে।

আজকের পাস হওয়া ‘সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ (রহিতকরণ) বিল’-এর মাধ্যমে এই বিধান বাতিল হচ্ছে এবং আগের মতো সংবিধানের বিধান অনুযায়ী বিচারক নিয়োগ দেওয়া হবে।

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশে বলা হয়েছিল, অধস্তন আদালত ও প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের তত্ত্বাবধান, নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা সংক্রান্ত সব দায়িত্ব পালন করবে সচিবালয়। বিচারকদের পদায়ন, পদোন্নতি, বদলি, শৃঙ্খলা ও ছুটি সংক্রান্ত সকল সিদ্ধান্ত সচিবালয়ের মাধ্যমে হবে। সচিবালয় প্রধান বিচারপতির অধীনে পরিচালিত হতো। বিল পাস হওয়ার পর এসব বিধান কার্যকর থাকবে না।

আইনমন্ত্রী বিল উত্থাপন করলে বিরোধী দলের সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান আপত্তি জানান। তিনি বলেন, এই বিল বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ। ফ্যাসিবাদী কায়দায় নিম্ন আদালত ব্যবহারের চেষ্টা চলছে। তিনি আরও বলেন, ১৯৭২ সালের সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ পরিবর্তন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হয়েছিল, যা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সুপ্রিম কোর্ট কোনো আইন অসাংবিধানিক কি না তা বলতে পারে। সরকার বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে অতীতে দলীয় ক্যাডারদের নিয়োগের কারণে বিচার বিভাগ কলঙ্কিত হয়েছে। এখন তারা স্বচ্ছতা ও যোগ্যতার মানদণ্ড নিরূপণ করতে পদক্ষেপ নিচ্ছে।

বিরোধী দলের অন্য সদস্য এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে ঘুড়ির নাটাই হাতে রেখে আকাশে ওড়ার স্বাধীনতা যতই দেওয়া হোক না কেন, বাস্তবে নিয়ন্ত্রণ থাকতে হবে। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ জারি করার আগে পরিস্থিতি জটিল ছিল। সংবিধানে রাষ্ট্রপতির প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে বিচারক নিয়োগের বিধান রয়েছে।

আইনমন্ত্রী আখতার হোসেনের বক্তব্যের জবাবে বলেন, তিনি থিওরিটিক্যালি একমত। অতীতে শপথবদ্ধ রাজনীতিবিদদের জন্য বিশেষভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া ব্যবহার করা হয়েছে। সরকার এখন নতুন পদক্ষেপে স্বচ্ছতা ও যোগ্যতার মানদণ্ড প্রণয়ন করবে।

বিল পাসের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানান, একজন বিচারপতির নামের সঙ্গে একটি বিশেষণ যুক্ত করা হয়েছে যা এক্সপাঞ্জ করা হয়েছে। কণ্ঠভোটে বিরোধী দলের আপত্তি নাকচ হয়ে বিল পাস হয়।


এ সম্পর্কিত আরো খবর