অনলাইন রিপোর্টার
আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সফুরা বেগম রুমীকে গ্রেপ্তার করেছে লালমনিরহাট জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। বুধবার (৮ এপ্রিল) রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে তাকে আটক করা হয়। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর অবশেষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তিনি গ্রেপ্তার হন।
গ্রেপ্তার হওয়া সফুরা বেগম রুমী আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত ছিলেন। তিনি দলটির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি তিনি সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
এছাড়া স্থানীয় রাজনীতিতেও তার সক্রিয় ভূমিকা ছিল। তিনি লালমনিরহাট জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। এসব দায়িত্বের মাধ্যমে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
লালমনিরহাট জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই সফুরা বেগম রুমী আত্মগোপনে ছিলেন। ওই সময় থেকে তাকে খুঁজতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিভিন্ন জায়গায় অভিযান পরিচালনা করে আসছিল।
পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এসব মামলার প্রেক্ষিতেই তাকে গ্রেপ্তারের জন্য গোয়েন্দা নজরদারি চালানো হচ্ছিল। পরে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে লালমনিরহাট জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি বিশেষ টিম রাজধানীর মোহাম্মদপুর আবাসিক এলাকায় অভিযান চালায়।
অভিযানের সময় একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তিনি সেখানে অবস্থান করছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর তাকে দ্রুত লালমনিরহাটে নিয়ে যাওয়া হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট মামলায় তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
এদিকে তার গ্রেপ্তারের ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে থাকার পর তার গ্রেপ্তার রাজনীতিক মহলে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।
লালমনিরহাট জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ওসি সাদ আহমেদ গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী তাকে আদালতে হাজির করা হবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর তদন্ত এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সাম্প্রতিক সময় বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান জোরদার করেছে। এর অংশ হিসেবেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত ও আইনি কার্যক্রমের স্বার্থে প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।