জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বৃহস্পতিবার আবারও বিরোধী দলীয় নেতারা ওয়াকআউট করেছেন। জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান নেতৃত্বে বিরোধী জোট সংসদ থেকে বেরিয়ে যান বিকেল ৫টা ৫৬ মিনিটে।
এদিন সংসদে ‘স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করা হয় এবং পরে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়। বিরোধী দল জানিয়েছে, দুঃখজনক হলেও সত্য যে বিরোধীদলের যৌক্তিক বাধা স্বত্ত্বেও যে কয়টি গণবিরোধী বিল পাস হয়েছে, তার দায় তারা নিতে চায় না। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওয়াকআউট করা হয়েছে।
ওয়াকআউটের ঘোষণা দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান জোটের সংসদ সদস্যদের নিয়ে অধিবেশন থেকে বের হন। এসময় ডেপুটি স্পিকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কিছু বলার সুযোগ দেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আইন প্রণয়নের ফাস্ট রিডিং, সেকেন্ড রিডিং, থার্ড রিডিংতে বিরোধী দল অংশগ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, "ওয়াকআউটের আগে তারা সমস্ত প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করেছে, তাই ওয়াকআউটের মানে কী, তা বোঝা প্রয়োজন। আশা করি মাগরিবের নামাজের পর তারা আবার অংশগ্রহণ করবেন।"
এর আগে, জাতীয় সংসদ শুরুর দিন ১২ মার্চ রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণ দেওয়াকে ঘিরে প্রথমবার ওয়াকআউট করেছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধী দল। এরপর আবার ১ এপ্রিল জাতীয় সংসদে ‘গণভোট ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ’ ইস্যুতে আলোচনার দাবিতে দেওয়া নোটিশের প্রতিকার না পাওয়ায় দ্বিতীয়বারের ওয়াকআউট হয়।
বিরোধী দলের ওয়াকআউট রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সংবিধান ও আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ার মধ্যে এই ধরনের প্রহসন রাষ্ট্রীয় নীতিতে অবনতি ঘটাতে পারে। ওয়াকআউটের ফলে সংসদের কার্যক্রমে ব্যাঘাত সৃষ্টি হতে পারে, যা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় প্রভাব ফেলতে পারে।
বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করছেন এবং সংসদে ভোটের প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করছেন। তারা আশা করছেন, সরকারের পক্ষ থেকে গণভোট ও সংশোধন সংক্রান্ত যথাযথ সমাধান হবে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, বিরোধী দলের এই ধরনের পদক্ষেপ দেশের রাজনীতিতে উত্তেজনা বৃদ্ধি করবে এবং সরকারের আইন প্রণয়ন কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারে।