অনলাইন রিপোর্টার
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, প্রচারণার মাধ্যমে হামের টিকাদান কর্মসূচিকে আরও জনপ্রিয় করতে হবে। রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে নগর ভবনে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা জরুরি। টিকাদান কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নের জন্য মাঠপর্যায়ে তথ্য পৌঁছে দিতে হবে এবং অভিভাবকদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে যাতে তারা নির্ধারিত বয়সী শিশুদের টিকা গ্রহণে এগিয়ে আসেন।
গত ৫ এপ্রিল থেকে দেশের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলায় জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। আজ ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি করপোরেশনেও হামের টিকাদান কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। আগামী ২০ এপ্রিল থেকে সারা দেশে একযোগে এই টিকাদান কর্মসূচি শুরু হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে ৮০ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে এবং এ সময়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ১৪৫ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হামে মোট মৃত্যু হয়েছে ২৪ জনের। আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৪৮৯ জনে। সন্দেহভাজন হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৯ হাজার ৪৬৩ জন, আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৭ হাজার ২২ জন শিশু।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করার মাধ্যমে হামের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। এজন্য স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী, ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে হামের টিকা দেওয়া যাবে, পূর্বে টিকা গ্রহণ করলেও। তবে জ্বর বা গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় থাকা শিশুদের টিকা না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়মতো টিকাদান নিশ্চিত করতে পারলে হামের সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব। তাই অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।