অনলাইন রিপোর্টার
দেশের সিলেট অঞ্চলে রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ২১ মিনিটে সিলেটের বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে এই কম্পন টের পান বাসিন্দারা। হঠাৎ কম্পনে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আন্তর্জাতিক ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইউরোপীয় মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয় ভারতের আসাম রাজ্যের শিলচর এলাকায়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৩। এই ভূমিকম্পের প্রভাব বাংলাদেশের সিলেটসহ সীমান্তবর্তী অঞ্চলেও অনুভূত হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভূমিকম্পের সময় সিলেট শহর ও আশপাশের এলাকায় হালকা কম্পন অনুভূত হলেও তা স্বল্প সময় স্থায়ী ছিল। অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে বাসাবাড়ি ও ভবন থেকে বাইরে বেরিয়ে আসেন।
এর আগে গত ৭ এপ্রিল একই এলাকায় আরও একটি ভূমিকম্প হয়েছিল, যার মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৯। ওইদিন বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা ৪৮ মিনিটে কম্পনটি অনুভূত হয় এবং সিলেটসহ আশপাশের এলাকায় এর প্রভাব পড়ে।
সর্বশেষ ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের বড় ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে একাধিকবার কম্পন অনুভূত হওয়ায় সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিলেট অঞ্চলটি ভূতাত্ত্বিকভাবে ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় অবস্থিত। তাই মাঝেমধ্যেই ছোট থেকে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়ে থাকে। তবে বড় ভূমিকম্পের ঝুঁকি এড়াতে প্রয়োজন সতর্কতা ও প্রস্তুতি।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে একাধিক ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এর মধ্যে গত বছরের ২১ নভেম্বর নরসিংদীর মাধবদী এলাকায় উৎপত্তি হওয়া ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে সারা দেশে ব্যাপক প্রভাব পড়ে। ওই ঘটনায় ১০ জন নিহত এবং কয়েকশ মানুষ আহত হন।
ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং দুর্যোগকালীন প্রস্তুতি জোরদার করা না হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।