ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

হামে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৭২৯


  • আপলোড সময় : সোমবার ১৩ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৪:০৫ পিএম

দেশে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ২ শিশুর মৃত্যু সরাসরি হামে হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বাকি ৫ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে, যা জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনের হিসাব অনুযায়ী, ১২ এপ্রিল সকাল ৮টা থেকে ১৩ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে এসব ঘটনা ঘটে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে ৭২৯ শিশু। এছাড়া নতুন করে ৮২ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের মতো সংক্রামক রোগের বিস্তার সাধারণত দ্রুত ঘটে এবং শিশুদের মধ্যে এর ঝুঁকি বেশি। বিশেষ করে যেসব শিশু টিকা পায়নি বা যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের ক্ষেত্রে জটিলতা বাড়ার আশঙ্কা থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে আক্রান্ত ও হাসপাতালে ভর্তি শিশুর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও সতর্কতার দাবি রাখে।

হাম একটি ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগ, যা সাধারণত জ্বর, সর্দি, কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ির মাধ্যমে প্রকাশ পায়। অনেক ক্ষেত্রে এটি নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া বা মস্তিষ্কে সংক্রমণের মতো গুরুতর জটিলতা তৈরি করতে পারে, যা প্রাণঘাতীও হতে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অভিভাবকদের সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হামের সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ হচ্ছে টিকাদান। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী শিশুদের হাম প্রতিরোধী টিকা নিশ্চিত করলে এই রোগের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। তাই যারা এখনো টিকা নেয়নি, তাদের দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এছাড়া শিশুদের জ্বর, ফুসকুড়ি বা অন্য কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের আলাদা রাখা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরবর্তীতে জানানো হবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর