বাহরাইনে অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করা প্রবাসী গিরিশ চন্দ্র সূত্রধরের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকাল ৯টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৮ নম্বর হ্যাঙ্গার গেটে মরদেহটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
মরদেহ হস্তান্তরের সময় উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি জানান, প্রবাসী গিরিশ চন্দ্র সূত্রধরের মরদেহ সৎকারের জন্য পরিবারকে প্রাথমিকভাবে ৩৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে আরও ৩ লাখ টাকা সহায়তা দেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
বিমানবন্দর সূত্রে জানা যায়, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে গালফ এয়ারের একটি ফ্লাইটে গিরিশ চন্দ্র সূত্রধরের মরদেহ ঢাকায় পৌঁছায়। এরপর প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এদিকে স্বজনরা জানান, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রথমে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। তারা বলেন, দীর্ঘ জটিলতা ও দুশ্চিন্তার পর সরকারের সহযোগিতায় মরদেহ দেশে আনা সম্ভব হয়েছে।
স্বজনদের কান্নায় বিমানবন্দর এলাকায় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পরিবার জানায়, প্রবাসে কাজ করতে গিয়ে তাদের স্বজনের মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক, তবে দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগে তারা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন।
সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রবাসীদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দূতাবাস নিয়মিত কাজ করছে। বিশেষ করে যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক অস্থিরতার কারণে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রবাসীদের নিরাপত্তা ও মরদেহ পরিবহন আরও জটিল হয়ে উঠছে। ফলে এ ধরনের ঘটনায় সরকারি সহায়তা ও দ্রুত সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।