অনলাইন রিপোর্টার
সরকার পাঁচ লাখ সরকারি কর্মচারী নিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, এই নিয়োগ কার্যক্রম ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে এবং এরই মধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরে শূন্য পদ পূরণের কাজ শুরু হয়েছে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকালে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৪তম দিনের প্রশ্নোত্তর পর্বে লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ তথ্য জানান।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং এর অধীন দপ্তর ও সংস্থাগুলোতে বিদ্যমান শূন্য পদের বিপরীতে ইতোমধ্যে ২ হাজার ৮৭৯ জন জনবল নিয়োগের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, সরকারি সেবার মান উন্নয়ন এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে এই নিয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পদ থাকার কারণে অনেক ক্ষেত্রে সেবা প্রদান ব্যাহত হচ্ছিল। নতুন এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেই সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে সরকার আশা করছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, দেশের তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বেকারত্ব হ্রাসের লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে করে বিপুলসংখ্যক শিক্ষিত তরুণ-তরুণীর জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
এ ছাড়া তিনি বলেন, সারাদেশে শহর ও গ্রামাঞ্চলে খেলার মাঠ নির্ধারণ এবং ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রীয় পর্যায়ে একটি কমিটি কাজ করছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিটি ইউনিয়নে ৮ বিঘা এবং প্রতিটি উপজেলায় ১০ বিঘা করে উন্মুক্ত খেলার মাঠ গড়ে তোলা হবে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে আরও শক্তিশালী করতে হাই-টেক ও সফটওয়্যার পার্ক এবং আইসিটি সেন্টারগুলো কার্যকরভাবে পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে পেপাল সেবা চালুর বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনি ইশতেহারের অংশ হিসেবে জাতীয় ক্রীড়াবিদদের জন্য ক্রীড়া ভাতা চালু করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ৫০০ জন ক্রীড়াবিদকে এই ভাতার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে প্রথম ধাপে ১২৯ জন ক্রীড়াবিদকে এই সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ল্যাংগুয়েজ স্টুডেন্ট ভিসায় শিক্ষার্থীদের জন্য জামানতবিহীন ঋণের সীমা ৩ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা করা হয়েছে। বিশেষ করে জাপানে পড়াশোনার উদ্দেশ্যে যাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা প্রাপ্তির আগেই ‘সার্টিফিকেট অব ইলিজিবেলিটি’র ভিত্তিতে ঋণ পাওয়ার সুযোগ সহজ করা হয়েছে।
সরকারের এই বহুমুখী উদ্যোগ দেশের প্রশাসনিক কাঠামো শক্তিশালী করার পাশাপাশি যুবসমাজের কর্মসংস্থান, ক্রীড়া উন্নয়ন এবং শিক্ষা খাতের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
আকাশজমিন / আরআর