ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

কুয়াকাটায় ফ্লাইট চালু হলে অবকাঠামো দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী


  • আপলোড সময় : বুধবার ১৫ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৩:৪৯ পিএম

অনলাইন রিপোর্টার

কুয়াকাটায় বিমানবন্দর স্থাপনের সম্ভাবনা নিয়ে জাতীয় সংসদে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, কোনো বেসরকারি কোম্পানি যদি কুয়াকাটায় ফ্লাইট পরিচালনায় আগ্রহ দেখায়, তাহলে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৪তম দিনে সম্পূরক প্রশ্নোত্তর পর্বে পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেনের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।

সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন তার প্রশ্নে কুয়াকাটার পর্যটন সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কুয়াকাটা ইতোমধ্যে দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। সেখানে নৌ ঘাঁটি, ক্যান্টনমেন্ট এবং পায়রা বন্দর রয়েছে। এসব সুবিধার সঙ্গে একটি আধুনিক বিমানবন্দর যুক্ত হলে কুয়াকাটাকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হতে পারে। তাই দ্রুত একটি বিমানবন্দর নির্মাণের সম্ভাবনা রয়েছে কি না—তা জানতে চান তিনি।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বিমানবন্দর নির্মাণ একটি বড় অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত, যা সরাসরি আর্থিক লাভ-ক্ষতির সঙ্গে সম্পর্কিত। তিনি উল্লেখ করেন, কোনো এলাকায় বিমানবন্দর নির্মাণের পর যদি পর্যাপ্ত ফ্লাইট পরিচালনা না হয় বা যাত্রী সংখ্যা কম থাকে, তাহলে সেটি অলাভজনক হয়ে দাঁড়াতে পারে। সে ক্ষেত্রে সরকারি অর্থ ব্যয় হয়ে লোকসানের বোঝা জনগণের ওপরই পড়বে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার এমন কোনো প্রকল্প নিতে চায় না, যা দীর্ঘমেয়াদে লোকসানের কারণ হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি এটাও স্পষ্ট করেন যে, কোনো উদ্যোক্তা যদি নিজ উদ্যোগে কুয়াকাটায় ফ্লাইট পরিচালনা করতে চায়, তাহলে সরকার সেই উদ্যোগকে সহায়তা করবে। এ ক্ষেত্রে অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিতকরণসহ বিভিন্ন সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে সরকার ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করে।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার আগে অবশ্যই বিস্তারিত যাচাই-বাছাই করা হবে। অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা, যাত্রী চাহিদা, পরিচালন ব্যয় এবং দীর্ঘমেয়াদি লাভজনকতা বিবেচনায় নিয়েই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার যেমন নিজের লোকসান চায় না, তেমনি কোনো বেসরকারি উদ্যোক্তাও যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেটিও নিশ্চিত করতে চায়। তাই সবদিক বিবেচনায় নিয়ে টেকসই ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনার ভিত্তিতেই কুয়াকাটায় বিমানবন্দর নির্মাণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, কুয়াকাটা বাংলাদেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্র। সেখানে বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু হলে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য যাতায়াত আরও সহজ হবে। তবে অবকাঠামো উন্নয়ন, যাত্রী সংখ্যা এবং আর্থিক সক্ষমতা—এই তিনটি বিষয়ই এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

সব মিলিয়ে, কুয়াকাটায় বিমানবন্দর স্থাপন নিয়ে সরকারের অবস্থান এখনো সম্ভাবনার পর্যায়ে রয়েছে। বেসরকারি বিনিয়োগ ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনার ওপর নির্ভর করেই এ প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে।

আকাশজমিন / আরআর       


এ সম্পর্কিত আরো খবর