বিভিন্ন অঙ্গনের প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির তালিকা প্রকাশ করেছে Time সাময়িকী। প্রকাশিত এই তালিকায় ‘লিডারস’ ক্যাটাগরিতে স্থান পেয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার সঙ্গে আরও রয়েছেন বিভিন্ন দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও আন্তর্জাতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিরা।
টাইম সাময়িকীর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক মাস আগেও তারেক রহমান দক্ষিণ-পশ্চিম লন্ডনে নির্বাসিত জীবন যাপন করছিলেন। তবে ২০২৪ সালে স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতনের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তিত হলে তিনি বিরোধী দলের আন্দোলনকারী থেকে দেশের পরবর্তী জাতীয় নেতা হিসেবে উঠে আসেন। এরপর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তাঁর দল নিরঙ্কুশ জয় লাভ করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই জয়ের মাধ্যমে তারেক রহমান মূলত তাঁর মা খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক পথ অনুসরণ করেছেন। দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে দেশে ফেরার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় তিনি তাঁর মাকে হারান বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। গত জানুয়ারিতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি ব্যক্তিগত শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে দেশকে ঐক্যবদ্ধ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি তখন বলেন, দেশের ১৭ কোটির বেশি মানুষের জন্য অর্থনীতিকে পুনরায় গতিশীল করা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা তাঁর প্রধান লক্ষ্য।
বর্তমান বাংলাদেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব এবং অর্থনৈতিক চাপের মতো চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি আঞ্চলিক পরাশক্তি ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে বলেও দাবি করা হয়। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তারেক রহমানকে দ্রুত ও কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলে টাইম মন্তব্য করেছে।
প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির তালিকায় ‘লিডারস’ ক্যাটাগরিতে আরও রয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি, জাপানের সানায়ে তাকাইচি, ইসরায়েলের বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, নেপালের বালেন্দ্র শাহ, ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন, নামিবিয়ার প্রেসিডেন্ট নেতুমবো নানদি, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফসহ আরও অনেকে।
টাইম সাময়িকীর মতে, এই তালিকায় থাকা ব্যক্তিরা নিজ নিজ দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি ও বৈশ্বিক নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তাদের সিদ্ধান্ত ও অবস্থান বিশ্ব রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণে প্রভাব ফেলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই তালিকায় তারেক রহমানের অন্তর্ভুক্তি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অবস্থানকে নতুনভাবে আলোচনায় এনেছে। একই সঙ্গে এটি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও নতুন বার্তা দিচ্ছে। বিশেষ করে অর্থনৈতিক সংকট ও আঞ্চলিক কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তার ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের নজর এখন আরও বেশি।.
আকাশজমিন / আরআর