ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারে পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার: আইনমন্ত্রী


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ১৬ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৪:৪৯ পিএম

অনলাইন রিপোর্টার

কার্যক্রম নিষিদ্ধ বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দায়ের করা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক মামলাগুলো প্রত্যাহারে বর্তমান সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, এসব মামলার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে মাগুরা-১ আসনের সরকারি দলের সদস্য মো. মনোয়ার হোসেনের টেবিলে উত্থাপিত এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। আইনমন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে দায়ের করা রাজনৈতিকভাবে হয়রানিমূলক মামলাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ইতোমধ্যে এ ধরনের মামলা পর্যালোচনার জন্য একটি কমিটি গঠন করেছিল। ওই কমিটির নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কোনো হত্যা মামলা প্রত্যাহার করা হয়নি। তবে অন্যান্য মামলার ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, চলতি বছরের ৫ মার্চ হয়রানিমূলক রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করার জন্য জেলা প্রশাসকের সমন্বয়ে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই জেলা কমিটিগুলো সংশ্লিষ্ট এলাকার মামলাগুলো যাচাই করে সুপারিশ প্রদান করছে।

এরপর ৮ মার্চ কেন্দ্রীয় পর্যায়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আইনমন্ত্রীকে আহ্বায়ক করে ছয় সদস্যের একটি কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি জেলা পর্যায় থেকে প্রাপ্ত সুপারিশগুলো বিশদভাবে পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সংসদ সদস্যসহ যেকোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে দায়ের করা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের জন্য নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আবেদন করা যাবে। আবেদন পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট জেলা ও কেন্দ্রীয় কমিটি তা পর্যালোচনা করবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, যদি কোনো মামলাকে পর্যালোচনায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দায়ের করা হয়েছে বলে প্রমাণিত হয়, তাহলে সেটি প্রত্যাহারের বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে তিনি স্পষ্ট করেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার চায় না কোনো নিরীহ ব্যক্তি রাজনৈতিক কারণে হয়রানির শিকার হোক। তাই এ ধরনের মামলার ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার দিতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।

বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক মামলার নিষ্পত্তি একটি সংবেদনশীল বিষয় হওয়ায় এতে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকার যে প্রক্রিয়ায় জেলা ও কেন্দ্রীয় কমিটির মাধ্যমে বিষয়টি পরিচালনা করছে, তা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হলে ভুক্তভোগীরা উপকৃত হতে পারেন।

সব মিলিয়ে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দায়ের করা মামলাগুলো পর্যালোচনা করে যথাযথ সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে বিচার ব্যবস্থায় আস্থা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে সরকার।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর