অনলাইন রিপোর্টার
জাতীয় সংসদ ভবনের মূল প্রবেশপথের নামকরণ করা হয়েছে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক এম এ জি ওসমানী-এর নামে। নতুন এই নাম অনুযায়ী প্রবেশপথে ‘জেনারেল এম এ জি ওসমানী গেট’ শিরোনামে একটি নামফলক স্থাপন করা হয়েছে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাতে জাতীয় সংসদ ভবনের মূল ভবনের প্রধান প্রবেশপথে এই নামফলক বসানো হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সংসদ সচিবালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী গণপূর্ত অধিদপ্তর এই কাজ সম্পন্ন করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের শেরেবাংলা নগর বিভাগ-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ পারভেজ।
তিনি গণমাধ্যমকে জানান, সংসদ সচিবালয়ের নির্দেশ পেয়ে নির্ধারিত প্রবেশপথে নামফলক স্থাপনের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা হয়েছে। রাতেই পুরো কাজ শেষ হয় এবং এরপর থেকে গেটটি ‘জেনারেল এম এ জি ওসমানী গেট’ নামে পরিচিত হবে।
সংসদ ভবনের এই প্রবেশপথটি মূলত সংসদ সদস্যদের যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত হয়। এখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত কঠোর। প্রবেশপথে টার্নস্টাইল, স্ক্যানিং পয়েন্ট এবং নির্দিষ্ট পরিচয়পত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রবেশের বিধান রয়েছে। শুধুমাত্র অনুমোদিত ব্যক্তিরাই এই গেট ব্যবহার করতে পারেন।
নতুন নামফলকটি মেরুন রঙের পটভূমিতে তৈরি করা হয়েছে, যেখানে সাদা অক্ষরে স্পষ্টভাবে ‘জেনারেল এম এ জি ওসমানী গেট’ লেখা রয়েছে। গেটের সামনে ও ভেতরে বিভিন্ন নির্দেশনামূলক সাইনবোর্ডও স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে নিরাপত্তা ও প্রবেশ সংক্রান্ত তথ্য উল্লেখ আছে। বিশেষ করে অতিথিদের জন্য কার্ড প্রদর্শনের নির্দেশনাও সেখানে দেওয়া হয়েছে।
এই নামকরণের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা একজন জাতীয় বীরকে সম্মান জানানো হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এম এ জি ওসমানী ছিলেন ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক।
১৯৭১ সালের ১১ এপ্রিল গঠিত প্রবাসী সরকারের কাঠামোয় তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই দায়িত্ব পান। তাঁর নেতৃত্বে মুক্তিবাহিনী সুসংগঠিতভাবে যুদ্ধ পরিচালনা করে এবং স্বাধীনতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। স্বাধীনতার পর তিনি জেনারেল পদে উন্নীত হন এবং দেশের সামরিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন।
বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তিত্বদের নাম যুক্ত করা হলে নতুন প্রজন্ম ইতিহাস সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হয় এবং জাতীয় চেতনা আরও সুদৃঢ় হয়। সংসদ ভবনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে এমন নামকরণ সেই ধারাবাহিকতারই অংশ।
সব মিলিয়ে, জাতীয় সংসদ ভবনের এই মূল প্রবেশপথের নতুন নামকরণ দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আকাশজমিন / আরআর