ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

আমার এলাকার হাসপাতাল নিজেই রোগীর মতো: রুমিন ফারহানা


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ১৬ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৪:৫৬ পিএম

অনলাইন রিপোর্টার

নিজ নির্বাচনী এলাকার স্বাস্থ্যসেবার করুণ চিত্র তুলে ধরে জাতীয় সংসদে তীব্র সমালোচনা করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তিনি বলেছেন, তাঁর এলাকার হাসপাতালের অবস্থা এমন যে সেটি নিজেই যেন একটি রোগীর মতো।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকালে সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে রুমিন ফারহানা এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলার স্বাস্থ্যসেবা কাঠামো অত্যন্ত দুর্বল অবস্থায় রয়েছে, যা স্থানীয় জনগণের জন্য বড় ধরনের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রুমিন ফারহানা জানান, সরাইল উপজেলার নয়টি ইউনিয়নের প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষের জন্য মাত্র একটি ৫০ শয্যার হাসপাতাল রয়েছে। কিন্তু এই হাসপাতালের অবস্থা এতটাই নাজুক যে এটি নিজেই একটি রোগীর মতো হয়ে পড়েছে। পর্যাপ্ত চিকিৎসা সুবিধা না থাকায় সাধারণ মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, হাসপাতালটিতে চিকিৎসক ও কর্মচারীর তীব্র সংকট রয়েছে। অনুমোদিত পদের মধ্যে বর্তমানে ৬৪টি পদ শূন্য রয়েছে, যা স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। এছাড়া প্রয়োজনীয় ওষুধের ঘাটতি এবং আধুনিক চিকিৎসা যন্ত্রপাতির অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

সংসদ সদস্য জানান, হাসপাতালের অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি নতুন ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। তবে গত ৫ আগস্টের পর ওই প্রকল্পের ঠিকাদার কাজ ফেলে পালিয়ে যায়। ফলে নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে পড়ে এবং এখন পুরনো একটি দোতলা ভবনে সীমিত পরিসরে চিকিৎসা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, এই পরিস্থিতিতে রোগীদের মানসম্মত চিকিৎসা দেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। জরুরি সেবা দিতে গিয়ে চিকিৎসকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। অনেক সময় রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য জেলায় পাঠাতে হচ্ছে, যা সময় ও খরচ—দুটোই বাড়িয়ে দিচ্ছে।

রুমিন ফারহানা সংসদে বলেন, একটি উপজেলার এত বড় জনগোষ্ঠীর জন্য মাত্র ৫০ শয্যার হাসপাতাল কোনোভাবেই যথেষ্ট নয়। দ্রুত জনবল নিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ নিশ্চিত না করলে এই সংকট আরও গভীর হবে।

তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, গ্রামীণ ও উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবাকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সংসদে তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে দেশের উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যব্যবস্থার বাস্তব চিত্র আবারও সামনে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু অবকাঠামো নয়, মানবসম্পদ ও ব্যবস্থাপনার সমন্বিত উন্নয়ন ছাড়া এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর