ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

১৫ ব্যক্তি ও ৫ প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ১৬ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৫:৫১ পিএম

দেশের ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ৫টি প্রতিষ্ঠানকে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ প্রদান করা হয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এই সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের হাতে এই পদক প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে দেশের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ, শিক্ষা, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান, সমাজসেবা, ক্রীড়া, প্রশাসন এবং পরিবেশসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রাখা ব্যক্তিত্ব ও প্রতিষ্ঠানকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মানিত করা হয়। স্বাধীনতা ও জাতীয় অগ্রগতিতে বিশেষ ভূমিকা রাখার স্বীকৃতি হিসেবে এই পুরস্কার প্রদান করা হয়, যা দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান হিসেবে বিবেচিত।

এ বছর স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, নারী শিক্ষাসহ দেশগঠনে সার্বিক অবদানের জন্য প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে। খালেদা জিয়ার পক্ষে স্বাধীনতা পুরস্কার গ্রহণ করেন তার নাতনি জাইমা রহমান। তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে এই মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সম্মান গ্রহণ করেন।

স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির মধ্যে রয়েছেন— মুক্তিযুদ্ধে মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিল (মরণোত্তর), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে সাবেক সচিব ও বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক অধ্যাপক জহুরুল করিম, সাহিত্যে আশরাফ সিদ্দিকী (মরণোত্তর), সংস্কৃতিতে ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র উপস্থাপক এ কে এম হানিফ (হানিফ সংকেত), বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী বশীর আহমেদ (মরণোত্তর), ক্রীড়ায় দেশের টেবিল টেনিসের কিংবদন্তি জোবেরা রহমান (লিনু), সমাজসেবায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী (মরণোত্তর), মো. সাইদুল হক, রাজধানীর মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষক মাহেরীন চৌধুরী (মরণোত্তর), জনপ্রশাসনে কাজী ফজলুর রহমান (মরণোত্তর), গবেষণা ও প্রশিক্ষণে মোহাম্মদ আবদুল বাকী, অধ্যাপক এম এ রহিম ও অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া এবং পরিবেশ সংরক্ষণে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এবং চ্যানেল আইয়ের পরিচালক আবদুল মুকিত মজুমদার (মুকিত মজুমদার বাবু)।

এ ছাড়া স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো— মুক্তিযুদ্ধে ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ, চিকিৎসাবিদ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পল্লী উন্নয়নে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ), সমাজসেবায় এসওএস চিলড্রেনস ভিলেজ ইন্টারন্যাশনাল ইন বাংলাদেশ এবং গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র।

রাষ্ট্রীয় এই সম্মাননা দেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে স্বীকৃতি দেওয়ার একটি ঐতিহ্যবাহী প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচিত। স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে সরকার জাতীয় উন্নয়ন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সামাজিক অগ্রগতি এবং মানবিক মূল্যবোধকে আরও সুসংহত করার উদ্যোগ গ্রহণ করে থাকে। প্রতি বছর স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে এই পুরস্কার প্রদান করা হয়, যা দেশের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

অনুষ্ঠানটি জাতীয় পর্যায়ে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও আনুষ্ঠানিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুসরণ করে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পুরস্কার বিতরণ সম্পন্ন করা হয়। উপস্থিত অতিথি, আমন্ত্রিত ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অনুষ্ঠানটি প্রত্যক্ষ করেন। পুরস্কারপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণার সময় মিলনায়তনে করতালি ও শ্রদ্ধার পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

এই ধরনের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি কেবল ব্যক্তিগত অর্জনের স্বীকৃতি নয়, বরং এটি জাতির সম্মিলিত ইতিহাস, সংগ্রাম ও উন্নয়নের প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হয়। স্বাধীনতা পুরস্কার দেশের গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়গুলোকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরে এবং তাদের দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে। একই সঙ্গে এটি সমাজে ইতিবাচক অনুপ্রেরণা তৈরি করে, যা বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন নেতৃত্ব ও সৃজনশীলতাকে উৎসাহিত করে।

স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা নিজ নিজ ক্ষেত্রে অবদান রেখে জাতির অগ্রযাত্রাকে সমৃদ্ধ করেছেন। মুক্তিযুদ্ধ, শিক্ষা, গবেষণা, সংস্কৃতি, প্রশাসন, সমাজসেবা এবং পরিবেশ সংরক্ষণে তাঁদের ভূমিকা দেশের উন্নয়নের ধারাকে আরও বেগবান করেছে। এই অবদান রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি পাওয়ার মাধ্যমে জাতীয় ইতিহাসে তাঁদের নাম আরও সুপ্রতিষ্ঠিত হলো।

অনুষ্ঠান শেষে পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তিত্ব ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা রাষ্ট্রীয় এই সম্মান গ্রহণ করেন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পুরো আয়োজনটি জাতীয় গৌরব ও মর্যাদার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়, যা দেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে স্থান করে নেয়।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর