দেশে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পরপরই এবার গণপরিবহনের ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব এসেছে। বাস ও লঞ্চ মালিকদের পক্ষ থেকে নতুন ভাড়া বৃদ্ধির আবেদন করা হয়েছে, যা কার্যকর হলে সাধারণ যাত্রীদের ওপর বাড়তি চাপ পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আজ রোববার থেকেই সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী জ্বালানি তেলের নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। এর ঠিক পরদিনই বাস ও লঞ্চ ভাড়া পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগ নেয়া হয়। এ বিষয়ে ভাড়া নির্ধারণ কমিটির একটি বৈঠক আজ সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বাস মালিক সমিতির দেওয়া খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী, ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের মহানগরীগুলোতে বাস ভাড়া ৬৪ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে দূরপাল্লার বাসে ভাড়া ৩৭ শতাংশ বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। মালিকদের দাবি, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে পরিবহন খরচ ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে, তাই ভাড়া সমন্বয় জরুরি হয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ নৌপথে যাত্রী পরিবহনকারী লঞ্চের ভাড়া ৩৬ থেকে ৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল যাত্রী পরিবহন (যাপ) সংস্থা। সংস্থাটি অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) কাছে ইতোমধ্যে একটি প্রস্তাব জমা দিয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, ১০০ কিলোমিটারের কম ও বেশি—উভয় দূরত্বের ক্ষেত্রে কিলোমিটারপ্রতি ১ টাকা করে ভাড়া বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি যাত্রীপ্রতি সর্বনিম্ন ভাড়া ২৯ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩৫ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
পরিবহন খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি সরাসরি পরিবহন ব্যয়ের ওপর প্রভাব ফেলে। ফলে ভাড়া সমন্বয় না করলে বাস ও লঞ্চ মালিকদের লোকসানের মুখে পড়তে হবে। তবে যাত্রীদের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে এই ভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
এদিকে আজকের বৈঠকে ভাড়া নির্ধারণ কমিটি বাস ও লঞ্চ মালিকদের প্রস্তাব যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে জানা গেছে। সিদ্ধান্তের পর নতুন ভাড়া কাঠামো ঘোষণা করা হতে পারে।
দেশে একদিকে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং অন্যদিকে গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাব—দুই পরিস্থিতি মিলিয়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।