দেশে মজুত প্রাকৃতিক গ্যাস দিয়ে আগামী ১২ বছর দেশের চাহিদা পূরণ সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি বলেন, নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার না হলে এবং বর্তমান দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ অব্যাহত থাকলে বিদ্যমান মজুত দিয়ে এ সময় পর্যন্ত চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে।
রোববার (১৯ এপ্রিল) সংসদে বগুড়া-৪ আসনের সরকারি দলীয় সংসদ সদস্য মো. মোশাররফ হোসেনের টেবিলে উত্থাপিত তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
জ্বালানিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে উত্তোলনযোগ্য প্রাকৃতিক গ্যাসের মোট মজুত আনুমানিক ২৯.৭৪ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ)। এর মধ্যে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ২২.১১ টিসিএফ গ্যাস উত্তোলন করা হয়েছে। ফলে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত অবশিষ্ট গ্যাস মজুত দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭.৬৩ টিসিএফ।
তিনি বলেন, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার নতুন গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করেছে। পেট্রোবাংলার ড্রিলিং ও ওয়ার্কওভার কর্মসূচির আওতায় মোট ৫০টি এবং ১০০টি কূপ খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ২৬টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে, বাকি কূপগুলোর কাজ বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, সিসমিক জরিপ কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে। বাপেক্স ইতোমধ্যে ব্লক-৭ ও ব্লক-৯ এলাকায় প্রায় ৩ হাজার ৬০০ লাইন কিলোমিটার ২ডি সিসমিক ডাটা সংগ্রহ সম্পন্ন করেছে। বর্তমানে এসব তথ্য প্রক্রিয়াকরণের কাজ চলছে।
এছাড়া বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল) হবিগঞ্জ, বাখরাবাদ ও মেঘনা গ্যাসক্ষেত্রে ১ হাজার ৪৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ৩ডি সিসমিক জরিপ শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
একইসঙ্গে আরও কয়েকটি এলাকায় নতুন ৩ডি সিসমিক জরিপের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ভোলার চর ফ্যাশনে ৬৬০ বর্গকিলোমিটার (বাপেক্স), জামালপুরে ৬৫০ বর্গকিলোমিটার (বাপেক্স), তিতাস, হবিগঞ্জ ও নরসিংদী এলাকায় ৬৩২ বর্গকিলোমিটার (বিজিএফসিএল) এবং লামিগাঁও, লালাবাজার, গোয়াইনঘাট, কৈলাশটিলা দক্ষিণ ও ফেঞ্চুগঞ্জ পশ্চিম এলাকায় ৮৮২ বর্গকিলোমিটার (এসজিএফএল)।
মন্ত্রী বলেন, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে দেশে গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে। এর লক্ষ্য হলো দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা শক্তিশালী করা এবং ভবিষ্যতে চাহিদা মেটাতে স্থিতিশীল সরবরাহ নিশ্চিত করা।