ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

বেইলি রোড ট্র্যাজেডি: ১৩ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা


  • আপলোড সময় : রবিবার ১৯ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৭:১২ পিএম

রাজধানীর বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজ ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ১৩ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। একই সঙ্গে মোট ২২ আসামির বিরুদ্ধে দাখিল করা অভিযোগপত্র আমলে নিয়েছেন আদালত।

রবিবার শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালত এই আদেশ দেন। আদালত আগামী ১৯ মে আসামিদের গ্রেফতার সংক্রান্ত তামিল শুনানির জন্য নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।

প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক জিন্নাত আলী জানান, মামলার মোট ২২ আসামির মধ্যে ৯ জন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বাকিরা অনুপস্থিত থাকায় ১৩ জন পলাতক আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

এর আগে, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সিআইডির পরিদর্শক শাহ জালাল মুন্সী গত ২ এপ্রিল দণ্ডবিধির সাতটি ধারার অধীনে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে বলা হয়, আসামিদের বিরুদ্ধে দায়-অবহেলা, অসতর্কতা এবং নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

অভিযোগপত্রে উল্লেখিত আসামিদের মধ্যে রয়েছেন বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের মালিক, ম্যানেজার এবং স্পেস ভাড়াটিয়ারা। এর মধ্যে রয়েছে চায়ের চুমুক কফিশপের স্বত্বাধিকারী আনোয়ারুল হক, আমিন মোহাম্মদ ফাউন্ডেশনের স্বত্বাধিকারী মো. রমজানুল হক নিহাদ, ম্যানেজার মুন্সি হামিমুল আলম বিপুল, কাচ্চি ভাই, খানাজ ও তাওয়াজ রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী মো. সোহেল সিরাজ, স্পেস মালিক ইকবাল হোসেন কাউসার, কাচ্চি ভাই রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার জেইন উদ্দিন জিসান, জেস্টি রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী মোহর আলী পলাশ ও মো. ফরহাদ নাসিম আলিম, ফুকো রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী আব্দুল্লাহ আল মতিন, ৬ষ্ঠ তলার ম্যানেজার মো. নজরুল ইসলাম খাঁন, মেজবানিখানা রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী লতিফুর নেহার, খালেদ মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ ও অঞ্জন কুমার সাহা, অ্যামব্রোশিয়া রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী মো. মুসফিকুর রহমান, পিৎজাইন রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী জগলুল হাসান, স্ট্রিট ওভেন রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী আশিকুর রহমান ও হোসাইন মোহাম্মদ তারেক, ফুকো রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী রাসেল আহম্মেদ, মো. সাদরিল আহম্মেদ শুভ, আদিব আলম, রাফি উজ-জাহেদ এবং শাহ ফয়সাল নাবিদ।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে সরকারি বিধি-নিষেধ অমান্য করে বৈধ অনুমোদন ছাড়াই ভবনে হোটেল ও রেস্টুরেন্ট ব্যবসা পরিচালনা করতেন। সেখানে নিরাপত্তা বিধি না মেনে গ্যাস সিলিন্ডার ও ইলেকট্রিক ওভেন ব্যবহার করা হতো, যা ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের কারণ হয়।

ঘটনাটি ঘটে ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি রাত পৌনে ১০টার দিকে। অগ্নিকাণ্ডে ৪৬ জন নিহত হন, এর মধ্যে ৩ জন সম্পূর্ণভাবে দগ্ধ হয়ে মারা যান। এছাড়া ১১ জন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন এবং ৭৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার পর ১ মার্চ রমনা থানায় মামলা দায়ের করে পুলিশ। মামলায় উল্লেখ করা হয়, আসামিদের অবহেলা, অসাবধানতা এবং বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের কারণে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ঘটে, যা থেকে ভয়াবহ আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর