অনলাইন রিপোর্টার
বগুড়ায় ‘ই-বেইল বন্ড’ সেবার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, বিচার ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ সোমবার সকালে তিনি বলেন, আদালত কোনো হয়রানির জায়গা নয়, বরং এটি ন্যায়বিচার পাওয়ার একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল। মানুষের মধ্যে যদি এই বিশ্বাস দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা করা যায়, তাহলে সমাজে বিদ্যমান মব ভায়োলেন্স বা সংঘবদ্ধ সহিংসতা অনেকাংশে কমে আসবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ন্যায়বিচার একটি আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান ভিত্তি। এটি কেবল আইন প্রয়োগের বিষয় নয়, বরং নৈতিকতা, মানবাধিকার এবং জনগণের প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত করার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা অপরিহার্য। তিনি উল্লেখ করেন, স্বাধীনতার ঘোষক শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ভিত্তি সুদৃঢ় করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন, যা দেশের বিচার ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের বিচার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী ও স্বচ্ছ করতে প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক সেবা চালু করা সময়ের দাবি। এর অংশ হিসেবে ইলেকট্রনিক জামিননামা ব্যবস্থাপনা ‘ই-বেইল বন্ড’ চালু করা হয়েছে, যা বিচার প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত করবে। এই উদ্যোগ বিচারপ্রার্থীদের সময় ও ভোগান্তি কমাবে এবং আদালতের কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করবে।
অনুষ্ঠানে সকালেই বগুড়া সার্কিট হাউসে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান। পরে তিনি জেলা আইনজীবী সমিতির নবনির্মিত বহুতল ভবনের ফলক উন্মোচন করেন। এরপর আদালত ভবনের কনফারেন্স কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের প্রথম ইলেকট্রনিক জামিননামা ব্যবস্থা ‘ই-বেইল বন্ড’ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত আইনজীবী, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও বিচার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এই উদ্যোগকে বিচার ব্যবস্থার ডিজিটাল রূপান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন। তারা মনে করেন, এই ব্যবস্থা চালু হলে জামিন প্রক্রিয়া আরও দ্রুত সম্পন্ন হবে এবং কাগজপত্র নির্ভরতা কমবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক বিচার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে পারলেই সমাজে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত হবে এবং সহিংসতা কমে আসবে। রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
অনুষ্ঠান শেষে তিনি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে বগুড়া শহরজুড়ে ছিল কড়া নিরাপত্তা ও উৎসবমুখর পরিবেশ।
আকাশজমিন / আরআর