বগুড়ার বাগবাড়ীতে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে আবেগঘন বক্তব্য দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নিজের গ্রামের মানুষের হাতে সরাসরি সহায়তা পৌঁছে দিতে পেরে মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করেন তিনি।
সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ীতে শহীদ জিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “নিজের বাড়ির মা-বোনদের ফ্যামিলি কার্ড দিতে পেরেছি—আলহামদুলিল্লাহ।” দীর্ঘ সময় পর নিজ এলাকায় ফিরে এমন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে পারায় তিনি গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রায় দুই যুগ পর নিজ এলাকার মানুষের সঙ্গে সরাসরি দেখা করার সুযোগ হয়েছে তার। এই ফিরে আসা তার জন্য অত্যন্ত আবেগঘন ও তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বলেন, “প্রিয় বাগবাড়ীবাসী, অনেক দিন পর আপনাদের মাঝে এসে কথা বলতে পারছি। এটি আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া।”
তিনি আরও জানান, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি কোনো হঠাৎ সিদ্ধান্ত নয়, বরং এটি দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার ফল। প্রায় এক দশক ধরে ধাপে ধাপে পরিকল্পনা করে এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের দিকে এগিয়েছেন তিনি। এই কর্মসূচির লক্ষ্য হচ্ছে নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা এবং পরিবারভিত্তিক সহায়তার মাধ্যমে জীবনমান উন্নয়ন করা।
তারেক রহমান বলেন, “প্রায় ১০ বছর ধরে এই পরিকল্পনার ছক এঁকেছি। আজ সেই পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাস্তবায়ন করতে পেরেছি। আল্লাহর কাছে কোটি কোটি শুকরিয়া—নিজের বাড়িতে মা-বোনদের ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার মতো অবস্থায় পৌঁছাতে পেরেছি।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত জনগণের উদ্দেশ্যে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, প্রাথমিকভাবে ৯১১ জন নারীকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হয়েছে। তবে যারা এখনো পাননি, তাদেরও পর্যায়ক্রমে এই সুবিধার আওতায় আনা হবে। তিনি বলেন, “ইনশাআল্লাহ, কেউ বাদ যাবে না। সবাই পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ড পাবেন।”
এই ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নারীরা সরাসরি বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুবিধা পাবেন বলে জানানো হয়েছে। এতে করে পরিবারে নারীর ভূমিকা আরও শক্তিশালী হবে এবং তাদের আর্থিক নিরাপত্তা বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। দীর্ঘদিন পর প্রধানমন্ত্রীর নিজ এলাকায় আগমনকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের অনেকেই এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন এবং এটি তাদের জীবনমানে পরিবর্তন আনবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন।
উল্লেখ্য, দেশব্যাপী নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে পরিবারের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বগুড়ার বাগবাড়ী থেকে এর কার্যক্রম শুরু হলেও পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য এলাকাতেও এটি সম্প্রসারণ করা হবে বলে জানা গেছে।
আকাশজমিন / আরআর