বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে এনে জনগণের কল্যাণে ব্যবহারের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জানিয়েছেন, এই অর্থ ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মাঝে বিতরণ করা হবে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ীতে ৯১১ জন সুবিধাভোগীর মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তিনি দুর্নীতি ও অর্থপাচারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথাও তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিগত স্বৈরাচারের সময় যে দুর্নীতি হয়েছে, তার মাধ্যমে দেশ থেকে লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। আমরা সেই অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে চাই। এটি জনগণের টাকা, জনগণের অধিকার। সেই অর্থ দিয়েই আমরা ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বাস্তবায়ন করব, ইনশাআল্লাহ।”
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে গ্রামীণ জনগোষ্ঠী। দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ গ্রামে বসবাস করে উল্লেখ করে তিনি জানান, আগামী পাঁচ বছরের পরিকল্পনায় গ্রামের মানুষের জীবনমান উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, “আমরা এমন একটি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি, যেখানে গ্রামের মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে। তাদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে এবং সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা হবে।”
নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং কৃষিঋণ মওকুফ—এসব ছিল জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতির অংশ। তিনি জানান, ইতোমধ্যে কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে, যার ফলে সারাদেশের প্রায় ১২ লাখ কৃষক উপকৃত হয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা কথার রাজনীতি করি না, কাজের মাধ্যমে প্রমাণ দিতে চাই। ধাপে ধাপে আমরা আমাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছি। কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো, তাদের ঋণের বোঝা কমানো এবং তাদের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো—এটাই আমাদের লক্ষ্য।”
তিনি আরও বলেন, দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে গ্রামকে এগিয়ে নিতে হবে। গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা গেলে পুরো দেশের অর্থনীতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে এগিয়ে যাবে বলে তিনি মনে করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত জনগণের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সরকার মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে। “আমাদের লক্ষ্য একটাই—দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়া এবং মানুষের জীবনমান উন্নত করা,” বলেন তিনি।
বগুড়ার বাগবাড়ীতে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে স্থানীয় জনগণের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের মাধ্যমে নারীদের আর্থিক নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধির একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আকাশজমিন / আরআর